ঈদুল ফিতরের এক সপ্তাহ আগে ঢাকার বাজারে বাড়তে শুরু করে মুরগির দাম, যা ঈদের আগে এসে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ বেড়ে গেছে।

রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাপ্তান বাজার, যাত্রাবাড়ী বাজারের মতো মুরগির পাইকারি মার্কেট ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগে জাতভেদে কেজিপ্রতি মুরগিতে দাম বেড়েছে ৬০-১২০ টাকা পর্যন্ত।

পাইকারি দামে পাকিস্তানি কক জাতের সোনালী মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৩০-৩৪০ টাকায়, হাইব্রিড সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩০০-৩২০ টাকায়। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, রমজানের প্রথম দিন এসব মুরগির দাম ছিল ৩০০ টাকার নিচে।

খুচরা বাজারে ভোক্তাদের মুরগি কিনতে হচ্ছে উচ্চ দামে। মতিঝিল, শান্তিনগর, মালিবাগ, রামপুরা ও বাড্ডা এলাকার কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, পাকিস্তানি কক জাতের সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৮০-৪০০ টাকায় এবং হাইব্রিড সোনালি বিক্রি হচ্ছে ৩৪০-৩৬০ টাকায়।

রমজানের প্রথম সপ্তাহেও বাজারে এসব মুরগির দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৮০-৩২০ টাকা। সে হিসাবে ঈদের আগের সপ্তাহে এসে মুরগির দাম বেড়েছে ১৫-২০ শতাংশের মতো।

ভোক্তাদের একটি বড় অংশের চাহিদা ব্রয়লার মুরগির মাংসে। ক’দিন আগেও ১৬০ টাকা কেজিদরে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হলেও ঈদের আগে দাম বেড়ে হয়েছে ২২০-২৪০ টাকা। এদিকে দেশী মুরগির দাম প্রায় গরুর মাংসের দামের কাছাকাছি। প্রতি কেজি দেশী মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৭০০-৭২০ টাকায়।

হঠাৎ করে মুরগির দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ জানিয়ে কাপ্তান বাজারের মুরগির আড়ৎদার হাফিজ উদ্দিন জানান, জ্বালানির সংকট থাকায় ঈদের আগে ঢাকার বাইরে থেকে মুরগি বোঝাই ট্রাক প্রবেশে সময় লেগেছে বেশি। এতে করে নানা সংকটে দাম বেড়ে গেছে।

খুচরা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত ঈদে তারা যত খুশি মুরগি আনতে পেরেছে। এই ঈদের আগে থেকেই সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে মুরগির আড়ৎদাররা। এতে করে বেশি দামে কম মুরগি এনে বিক্রি করতে হচ্ছে তাদের।

হঠাৎ করে মুরগির দাম ঈদের আগে বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরণের বিপাকে পড়েছে নিম্নবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত ক্রেতারা। রামপুরা বাজারে মুরগি কিনতে এসে এক ক্রেতা সুমাইয়া আক্তার বলেন, “২৮০ টাকার মুরগি কীভাবে ৩৮০ টাকা হয়ে যায় সেটা আমাদের বোধগম্য না। এদিকে ব্রয়লার মুরগির দাম বেড়ে শুরুতে ১৬০ টাকা কেজি থেকে হলো ১৮০ টাকা। এখন ব্রয়লার মুরগির দাম চাচ্ছে ২৩০ টাকা করে।”

জ্বালানির অজুহাত দিয়ে মুরগির দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের চাপে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব)। ক্যাবের মতে প্রতি ঈদেই কোনো না কোনো অজুহাত দিয়ে মুরগির দাম বাড়ান ব্যবসায়ীরা। এবার তাদের জন্য জ্বালানি রেশনিং অযাচিত দাম বাড়ানোর একটি বড় অযুহাতে পরিণত হয়েছে।

ক্যাব সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, “এমন না বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট আছে। জ্বালানি রেশনিং এর অজুহাত দিয়ে ব্যবসায়ীরা দাম বাড়ালে বাজার মনিটরিং করে সেই দাম নাগালের মধ্যে রাখার দায়িত্ব সরকারের। কিন্তু অযৌক্তিকভাবে মুরগির দাম বাড়তে থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকরী বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।”

এবারের মাংসের বাজারের লাগামহীন অবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় ক্যাব হতাশ উল্লেখ করে সফিকুজ্জামান জানান, একদিকে প্রান্তিক খামারিরা কোনো ধরণের মুনাফা করতে পারছেন না, অন্যদিকে ভোক্তাদের পকেটে থেকে বাড়তি টাকা খরচ। মধ্যস্বত্ব যে গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে সেটিকে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মধ্যে রাখার দায়িত্ব সরকারের।