বাংলাদেশে এখন থেকে ২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করবে। সব ওষুধ কোম্পানিকে এই নির্ধারিত দামে ওষুধ বিক্রি করতে হবে। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (উপদেষ্টা পদমর্যাদা) অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “২৯৫টি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ করবে। সব কোম্পানিকে এই দাম মেনে চলতে হবে। খুব শিগগিরই এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হবে।”

অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান জানান, যেসব ওষুধের তালিকা করা হয়েছে, সেগুলো দিয়ে দেশের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষের রোগের চিকিৎসা করা হয়। তিনি বলেন, “সরকার দাম নির্ধারণ করে দেওয়ায় এসব মানুষের জন্য ওষুধের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হবে। ওষুধের দাম যেন কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের ওষুধ পাওয়ার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, সে কারণেই এ সিদ্ধান্ত।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এই উদ্যোগকে যুগান্তকারী উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে যেসব ওষুধ কোম্পানি সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করছে, তাদের নির্ধারিত দামে নামতে হবে। আর যারা কম দামে ওষুধ বিক্রি করছে, তারা চাইলে কম দামেই বিক্রি করতে পারবে অথবা সরকার নির্ধারিত দামে উঠতে পারবে।

দেশের বাইরের কোম্পানিগুলোর জন্য ওষুধের দাম নির্ধারণের বিষয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে পিপিপি (পারচেসিং পাওয়ার প্যারিটি) বিবেচনায় নিয়ে কোম্পানিগুলোর প্রস্তাব যাচাই করে সরকার মূল্য নির্ধারণ করবে। আন্ডার পেটেন্ট ও আউট অব পেটেন্ট ওষুধের জন্য আলাদা আলাদা শ্রেণি থাকবে।

ডা. সাইদুর রহমান জানান, এ লক্ষ্যে একটি টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছিল। টাস্কফোর্সটি ওষুধ উৎপাদন ও বিপণনের সঙ্গে যুক্ত সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করেছে। আপাতত তারা ড্রাগ প্রাইস অথরিটির ভূমিকা পালন করবে, যা পর্যায়ক্রমে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্তৃপক্ষে রূপ নেবে। এর ফলে ওষুধ প্রাপ্তির পথে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী ড্রাগ প্রাইসিং অথরিটি গঠন করা হবে, যার একমাত্র দায়িত্ব হবে ওষুধের দাম নির্ধারণ। বিশ্ববাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তখন দেশের বাজারে ওষুধের দাম নির্ধারিত হবে।

বাজারে মানহীন ওষুধ প্রসঙ্গে অধ্যাপক ডা. সাইদুর রহমান বলেন, মানহীন ওষুধ বলে কিছু নেই। কোনো কিছুর মান না থাকলে তা আর ওষুধ থাকে না, বরং তা কেমিক্যাল সাবস্ট্যান্সে পরিণত হয়। ওষুধের মান বজায় রাখতে সরকার সব দিক থেকে তৎপর রয়েছে বলেও তিনি জানান।