দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে অভিবাসী কর্মী পাঠানোর রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হলেও এসব এজেন্সির ওপর কার্যকর নজরদারি ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিট (রামরু)।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘আন্তর্জাতিক শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি ২০২৫’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে প্রকাশিত সংস্থাটির বার্ষিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।

রামরুর প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ১৯২টি, পাকিস্তানে ৪৬৪টি, নেপালে ৪১৬টি এবং শ্রীলঙ্কায় ২৪৮টি। সেখানে বাংলাদেশে বিদেশে কর্মী পাঠানোর লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ২ হাজার ৬৪৬টি।

অনুষ্ঠানে রামরুর ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, অতীতে বাংলাদেশে রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা ৮০০ থেকে ৯০০-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তা বেড়ে ২ হাজার ৩০০-এ পৌঁছায়।

তিনি বলেন, ‘এত বেশি সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স দেওয়ার পেছনে মূল কারণ দুর্নীতি। একই কোম্পানি বা একই পরিবারের একাধিক সদস্যকে একাধিক লাইসেন্স দেওয়ার নজির রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ১৮৮টি এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল এবং ১৯১টি এজেন্সির লাইসেন্স স্থগিত করা হলেও নতুন করে ২৫২টি এজেন্সির লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আরও প্রায় ৩০০টি এজেন্সির লাইসেন্স আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা কমানোর বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘নতুন করে এতগুলো লাইসেন্স অনুমোদন দেওয়া শ্বেতপত্রের সুপারিশের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’

অনুষ্ঠানে সামাজ কর্মী ও আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘সমস্যা শুধু রিক্রুটিং এজেন্সিতে সীমাবদ্ধ নয়। বিদেশে বাংলাদেশের দূতাবাসগুলোর অনেকগুলোই দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসে গিয়ে দেখেছি, অভিবাসীদের জন্য সামনে দিয়ে প্রবেশের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাদের পেছনের একটি ছোট গেট দিয়ে ঢুকতে হয়। এমনকি ছোটখাটো কাজ করতেও দালালের শরণাপন্ন হতে হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভারত বা নেপাল থেকে বিদেশে কর্মী নিলে নিয়োগকর্তারা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের অর্থ প্রদান করেন। অথচ বাংলাদেশে চিত্র উল্টো। বাংলাদেশি অভিবাসীদের লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশে যেতে হচ্ছে। একটি গোষ্ঠী তাদের কষ্টার্জিত অর্থ লুটে নিচ্ছে।’

রিক্রুটিং এজেন্সির দুর্নীতি রোধে রামরু প্রস্তাব দিয়েছে—যেসব এজেন্সি বিদেশগামী কর্মীদের কাছ থেকে নির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করবে, তাদের অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থের পাঁচ গুণ জরিমানা করা। পাশাপাশি লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির সংখ্যা কমানো এবং একই পরিবারের একাধিক লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্বার্থের সংঘাত এড়াতে ভবিষ্যৎ সংসদের সদস্য বা তাঁদের পরিবারের কোনো সদস্যের নামে রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স থাকলে তা স্থগিত করার সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।