যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি৭–এর বিকল্প হিসেবে রাশিয়াকে যুক্ত করে পাঁচ দেশীয় নতুন জোট ‘সি৫’ (কোর–৫) গঠনের আলোচনা চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক সাময়িকী পলিটিকো।

হোয়াইট হাউজ সম্প্রতি জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের কিছু অংশ প্রকাশ করেছে। পাঁচ দেশীয় নতুন এই জোট গড়ার পরিকল্পনাটি ওই কৌশল নথিতেই রয়েছে বলে জানা গেছে, যদিও নথিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

ডিফেন্স ওয়ান জানায়, প্রস্তাবিত সি৫ জোটে থাকবে বিশ্বের জনবহুল ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পাঁচ দেশ—যুক্তরাষ্ট্র, চীন, রাশিয়া, ভারত ও জাপান। এটি জি৭–এর মতোই হবে একটি অনানুষ্ঠানিক ফোরাম, তবে সদস্যপদ নির্ধারিত হবে রাজনৈতিক ব্যবস্থা নয়, জনসংখ্যা (১০ কোটির বেশি) ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ভিত্তিতে।

প্রধান আলোচ্য হবে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি

সি৫ বৈঠকে প্রথমেই গুরুত্ব পেতে পারে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা—বিশেষ করে ইসরায়েল ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়টি। হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি আন্না কেলি পলিটিকোকে এই জোট–সংক্রান্ত নথির অস্তিত্ব নিশ্চিত করতে অস্বীকৃতি জানান।

জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সি৫ জোট গঠিত হলে তা বর্তমান প্রশাসনের ভূরাজনৈতিক স্বার্থে সহায়ক হবে।

ইউরোপকে বাদ দেওয়ায় উদ্বেগ

হোয়াইট হাউজ ডিসেম্বরের শুরুতে ৩৩ পৃষ্ঠার নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল প্রকাশ করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কিছু কর্মকর্তা ও বিশ্লেষক অভিযোগ করেছেন, নথিটির ভাষায় ‘ক্রেমলিনের সুর’ পাওয়া গেছে। এতে ইউরোপকে ‘সভ্যতার দিক থেকে বিলুপ্তির পথে’ বলে উল্লেখ করা হয়, আর রাশিয়াকে যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি হিসেবে দেখানো হয়নি।

সি৫ জোটের আলোচনাতেও ইউরোপকে বাদ রাখায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের ইউরোপীয় বিষয়ক পরিচালক টোরি টাউসিগ বলেন, ‘ইউরোপকে বাইরে রেখে সি৫ জোটের পরিকল্পনা ইউরোপীয়দের মনে করাতে পারে যে এই প্রশাসন রাশিয়াকেই প্রধান শক্তি হিসেবে দেখছে—যাদের ইউরোপে প্রভাব বিস্তারের সক্ষমতা রয়েছে।’