সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থিতার আলোচনা শুরুর পর নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের জবাবে বুধবার নিজের ও পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
রাতে বাংলামোটর এনসিপি কার্যালয়ে জরুরী সংবাদ সম্মেলন করে আসিফ নিজের, তার বাবা-মা এবং স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব প্রকাশ করেন।
আসিফ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগের সময় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাছে তার আয় ও সম্পদের সম্পূর্ণ বিবরণী পেশ করা হয়েছে। “এরপরও যখন আমার সম্পত্তি নিয়ে জল্পনা করার চেষ্টা করা হচ্ছে, তখন আমি মনে করছি আমার এবং আমার পরিবারের সবার ব্যাংক হিসাব জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেয়া প্রয়োজন। যাতে এই বিষয়গুলো নিয়ে কেউ কোনো ধরনের বিভ্রান্তি করতে না পারে।”
শুরুতে শুধু নিজের ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিলেও পরিবর্তীতে পরিবারের বাকিদেরও ব্যাংক হিসাব প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন আসিফ। “আমি শুধু আমার ব্যাংক স্টেটমেন্ট প্রকাশ করার কথা জানিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে আমারসহ পরিবারের সবার ব্যাংক স্টেটমেন্ট উন্মুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেই, যাতে এই বিষয়গুলোতে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট না থাকে।”
আসিফ জানান, ১৬ মাস উপদেষ্টা থাকাকালীন সময়ে তার বেতন গড়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার করে ধরে ভাতাসহ অন্যান্য সব লেনদেন দুইটি ব্যাংক অ্যাকাউন্টেই হয়েছে। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৬২৬ টাকা আছে। সবমিলিয়ে এই অ্যাকাউন্টে বেতনসহ সবকিছু মিলে মোট ক্রেডিট হয়েছে ৮৫ লাখ ৮১ হাজার টাকা। আর ডেবিট হয়েছে ৭৬ লাখ ৩ হাজার টাকা। সবমিলিয়ে আসিফের দু’টি অ্যাকাউন্টে মোট ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৫৫৬ টাকা রয়েছে।
এছাড়া আসিফের বাবার পাঁচটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। এই পাঁচটি ব্যাংকে মোট ক্রেডিট আছে ৫ লাখ ৪৭ হাজার ৭১১ টাকা। কিন্তু সাবেক এই উপদেষ্টার বাবার সার্ভিস লোন আছে ১০ লাখ টাকা। সার্ভিস লোনের এখনো পেমেন্ট বাকি আছে ৬ লাখ ৩৯ হাজার ৭৪৬ টাকা। আসিফের বাবা এখনো ৮২ হাজার ৩৫ টাকার মতো দেনায় আছেন বলে জানান সাবেক এ উপদেষ্টা।
আসিফ জানান, তার মায়ের একটিই ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে। যেখানে ২১ হাজার ১৫৪ টাকা আছে। এছাড়া তার স্ত্রীরও একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে, সেখানে ৬১৩ টাকা আছে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আসিফের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে উল্লেখ করে আসিফ বলেন, “বাংলাদেশে যারা আওয়ামীলীগ এখনো রয়ে গেছেন এবং যাদের হীন স্বার্থ আছে তারাই আমার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন। আমি উপদেষ্টার দায়িত্ব ছাড়ার সময়ও কেউ এসব অভিযোগ তুলেননি। সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ঘোষণা দেয়ার পরেই হীন উদ্দেশ্যে একটি দল এসব কাজ করছে।”
২ মার্চ আসিফের ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করেছ বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) দেশের সব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চিঠি পাঠিয়েছে।
চিঠিতে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে আসিফের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবের সব তথ্য নথিভুক্ত করে বিএফআইইউতে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন উপদেষ্টাদের একজন ছিলেন আসিফ। প্রথমে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ ছাড়েন আসিফ। পরে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এর আগে এ বছর ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাতে দেখা যায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ২০২৫ সালের ৩০ জুনের তথ্য অনুযায়ী মোট সম্পদ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা এবং তার দেনা ২৮ হাজার ৬৬৯ টাকা।
পূর্বের পোস্ট :