গাজীপুর জেলার পাঁচটি সংসদীয় আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। বিএনপি প্রার্থীদের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয়তা ও সমর্থন থাকলেও ১১ দলীয় জোট, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের উপস্থিতিতে প্রতিটি আসনেই তৈরি হয়েছে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। ভোটার সংখ্যা, পোস্টাল ভোট এবং দলীয় বিভক্তি অনেক ক্ষেত্রে ফল নির্ধারণকে আরও জটিল করে তুলছে।

নির্বাচনি উত্তেজনা বাড়িয়েছে বৃহত্তম দুই রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের গাজীপুরে আগমন।

গাজীপুর-১: নতুন ইতিহাস গড়ার চ্যালেঞ্জ বিএনপির

কালিয়াকৈর উপজেলা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের তিন থানা নিয়ে গঠিত গাজীপুর-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. শাহ আলম বকশী (দাঁড়িপাল্লা)। দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের দখলে থাকা আসনে বিএনপি নতুন ইতিহাস গড়তে চাইলেও অভ্যন্তরীণ বিভক্তির প্রভাব পুরোপুরি কাটেনি বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ১৬ হাজার ৪৯২ জন। পোস্টাল ভোটার ৪ হাজার ৪৪৫ জন।

গাজীপুর-২: বিরোধ মিটলেও অনিশ্চয়তা

গাজীপুর মহানগরের গুরুত্বপূর্ণ এ আসনে বিএনপির প্রার্থী মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি। তার বিপরীতে ১১ দলীয় জোটের এনসিপি প্রার্থী আলী নাছের খান (শাপলা কলি)। জামায়াতে ইসলামী ও জোটের নেতাকর্মীদের সক্রিয় প্রচারে লড়াই জমেছে। টঙ্গী এলাকায় পূর্বের বিরোধ পুরোপুরি মিটেছে কি না, তা ভোটের ফলেই স্পষ্ট হবে বলে মত ভোটারদের।
এ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ৯৯ হাজার ৯৯ জন। পোস্টাল ভোটার ৫ হাজার ২৩৪ জন।

গাজীপুর-৩: প্রার্থী বদলে সুবিধা বিএনপির

শ্রীপুর উপজেলা ও নগরীর একাংশ নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় নেতা এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১১ দলীয় জোটের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রার্থী মুহাম্মদ এহসানুল হক (রিকশা) এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ইজাদুর রহমান চৌধুরী (ঘোড়া)। জোটের প্রার্থী পরিবর্তনের ফলে বিএনপি কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ২৩ হাজার ২২৫ জন। পোস্টাল ভোটার ৪ হাজার ১৩৪ জন।

গাজীপুর-৪: বিএনপি-জামায়াতের দ্বিমুখী লড়াই

কাপাসিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৪ আসন আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসেবে পরিচিত হলেও এবারের নির্বাচনে মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী শাহ রিয়াজুল হান্নান এবং জামায়াতের প্রার্থী সালাউদ্দিন আইয়ুবীর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতার আভাস মিলছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩০ হাজার ৯৭৭ জন।

গাজীপুর-৫: সম্ভাব্য ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা

কালীগঞ্জ উপজেলা ও নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর মো. খায়রুল হাসান (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গাজী আতাউর রহমান (হাতপাখা) এবং জনতার দলের আজম খান (কলম) শক্ত অবস্থানে রয়েছেন। ভোটারদের মতে, এ আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনাই বেশি।
এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫০ হাজার ৯৬৬ জন। পোস্টাল ভোটার ৩ হাজার ৬৭৭ জন।

সার্বিকভাবে, গাজীপুরের পাঁচ আসনেই জোট রাজনীতি, দলীয় ঐক্য-বিভক্তি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ভূমিকা নির্বাচনের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।