নির্বাচনের মাত্র ছয়দিন আগে মিছিল নিয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার যমুনা ঘেরাও কর্মসূচি নিলে পুলিশের বাধায় প্রথমে ধস্তাধস্তি, পরে রাবার বুলেটে আহত হয়েছেন হাদির সহচর ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ জাবের; যদিও অনেক গণমাধ্যমে বলা হয়েছে জাবের গুলিবিদ্ধ তবে এ খবর নাকচ করে দিয়েছে অন্তবর্তীকালীন সরকার।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর যমুনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করে ইনকিলাব মঞ্চের শতাধিক আন্দোলনকারী। হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে যমুনা ঘেরাও করা ছিল তাদের মূল কর্মসূচি। কিন্তু হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশি বাধার মুখে পড়ে তারা। এক পর্যায়ে জাবের ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের ভিপি সালাহউদ্দীন আম্মার ব্যারিকেডের ওপরে উঠে পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জাবের পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে মাইকে বলছেন, “থাপড়াইয়া তোদের দাঁত ফালাইয়া দিবো।” এ ঘটনার কিছু সময়ের মধ্যেই পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা অভিমুখে ছুটে জান উত্তেজিত আন্দোলনকারীরা। তাদের থামাতে শুরুতে জলকামান ব্যবহার করে পুলিশ। পরে লাঠিচার্জ শুরু হয়।
আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের জল কামানকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায়৷ পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ টিয়ার শেল, সাউন্ড গ্রেনেড এবং এক পর্যায়ে রাবার বুলেট ছোড়ে। এই রাবার বুলেটের আঘাতেই মূলত জাবের ও আম্মার আহত হয়।
সোশ্যাল মিডিয়ার ইনকিলাব মঞ্চের পেইজ ও কিছু অনলাইন মিডিয়ায় সঙ্গে সঙ্গে খবর প্রচার করা হয়, জাবের গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে আদতে এটি কোনো গুলি না বরং রাবার বুলেট ছিল বলে নিশ্চিত করেছে ঢাকা মেডিকেল প্রতিনিধি।
এ নিয়ে সন্ধ্যায় অন্তবর্তীকালীন সরকার সন্ধ্যায় বিবৃতি দিয়েছে। তারা জানিয়েছে, যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।
বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানায়— এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাঁদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।
সরকার স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী রবিবার জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।
বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয় বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :