ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) মধ্যবর্তী সরকারের খসড়া ‘জাতীয় মিডিয়া কমিশন’ ও ‘সম্প্রচার কমিশন’ অধ্যাদেশর কঠোর সমালোচনা করেছে। টিআইবির মতে, এই পদক্ষেপ স্বাধীন মিডিয়ার উন্নয়নকে ব্যাহত করবে এবং এটি জনমতের পরিপন্থী।
টিআইবি জানিয়েছে, বহু বছর ধরে বাংলাদেশের মুক্ত সংবাদ ও স্বতন্ত্র সম্প্রচারের জন্য কার্যকর, সমন্বিত ও স্বাধীন মিডিয়া কমিশনের দাবি করা হচ্ছে। মিডিয়া রিফর্ম কমিশনের প্রতিবেদনে এই দাবি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তবে মধ্যবর্তী সরকার প্রতিবেদনের সুপারিশ বাস্তবায়নে উদাসীনতা দেখিয়েছে।
টিআইবি মনে করছে, মাত্র তিন দিনের মধ্যে জনগণের মতামত নেওয়া এবং খসড়াগুলোর কাঠামোই প্রমাণ করছে, সরকারের আসল লক্ষ্য মিডিয়ার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা।
টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, “কমিশনের গঠন, কমিশনারদের ক্ষমতা এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থার ধরন এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে দুটি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণরূপে সরকারি নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। এটি মধ্যবর্তী সরকারের মুক্ত মিডিয়া ও স্বাধীন সম্প্রচারের প্রতিশ্রুতির পরিপন্থী।”
তিনি আরও বলেন, মধ্যবর্তী সরকারের সময় সাংবাদিকদের ওপর সহিংসতা, কর্তৃত্ব আরোপের চেষ্টা এবং রাষ্ট্র ও অ-রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রণের নজির বহুবার দেখা গেছে। এই খসড়া অধ্যাদেশও সেই একই মনোভাবের প্রতিফলন।
ড. জামান উল্লেখ করেছেন, বর্তমান প্রেস কাউন্সিলের সীমাবদ্ধতা এবং সম্প্রচার মাধ্যমের জন্য কোনো তুলনীয় কাঠামোর অভাব রয়েছে। মিডিয়া রিফর্ম কমিশন সুপারিশ করেছিল, সরকারী নিয়ন্ত্রণের বাইরে একটি একক, স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠন করা হোক। তবে সরকার তা অনুসরণ করেনি।
টিআইবি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, খসড়া অধ্যাদেশগুলো তাড়াহুড়া করে জারি করা থেকে বিরত থাকুন। তারা রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আশা প্রকাশ করেছে, নতুন সংসদ গঠনের পর জনগণের মতামত গ্রহণ করে একটি সত্যিকারের স্বাধীন মিডিয়া কমিশন গঠন হবে।
ড. জামান বলেন, “একটি স্বাধীন ও সমন্বিত মিডিয়া কমিশন দেশের মুক্ত সংবাদ ও স্বতন্ত্র সম্প্রচারের জন্য সর্বোচ্চ পেশাগত মান নিশ্চিত করবে এবং সাংবাদিকদের জন্য একটি নিরাপদ ও অনুকূল পরিবেশ তৈরি করবে।”
পূর্বের পোস্ট :