আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে প্রচারণায় সরকারি কর্মচারীরা অংশ নিতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে একটি নির্দেশনা জারি করে নির্বাচন কমিশন। দেশের সব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি গণভোট সম্পর্কে জনগণকে তথ্য জানাতে এবং সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। 

তবে কোনোভাবেই তারা জনগণকে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর পক্ষে ভোট দিতে আহ্বান জানাতে পারবেন না।

ইসি ডেপুটি সেক্রেটারি মোহাম্মদ মুনির হোসেনের স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ ধারা এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ১৯৭২-এর ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের এ ধরনের কার্যক্রম গণভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে এবং এটি গণভোট অধ্যাদেশ ২০২৫-এর ২১ ধারা ও আরপিও ১৯৭২-এর ৮৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, গণভোটে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা গণভোট সম্পর্কে প্রচার কার্যক্রম চালাবেন, তবে কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে প্রচারণায় অংশ নেবেন না।

তিনি বলেন, “গণভোটে আমাদের অবস্থান হলো জনগণকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। কিন্তু যারা নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করবেন না।”

নির্বাচন কমিশনার আরও জানান, রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং অন্যান্য নির্বাচন কর্মকর্তারা গণভোট সংক্রান্ত তথ্য প্রচার করবেন, তবে কোনো পক্ষ নেবেন না।

তিনি বলেন, “কোনো রিটার্নিং কর্মকর্তা বা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা কোনো পক্ষের হয়ে প্রচারণা করছেন না। যারা রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োজিত, তারা তা করতে পারেন না।”

উল্লেখ্য, গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ সংক্রান্ত গণভোট একসঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হওয়ার তফসিল ঘোষণা করে।