বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আইকন ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, দেশের মানুষ তাকে প্রাণভরে ভালোবাসত, তিনি ছিলেন মানুষের আস্থার প্রতীক।
সোমবার ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসি বাংলাদেশ) আয়োজিত ১৮টি ব্যবসায়ী সংগঠনের উদ্যোগে খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মির্জা ফখরুল।
তিনি বলেন, “খালেদা জিয়াকে নিয়ে শোকসভায় কথা বলা আমাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন। তিনি আজীবন গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্রের আইকন। যাদের জন্য তিনি লড়াই করেছেন, তারাই তাকে ভালোবেসেছেন। খালেদা জিয়ার জানাজায় লাখো মানুষের উপস্থিতিই তার প্রমাণ। এরা সবাই সাধারণ মানুষ। বিএনপি কোনোভাবে সংগঠিত করে তাদের সেখানে আনেনি।”
বিএনপির নেতাকর্মীদের ওপর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ভয়াবহ দমন-পীড়নের কথা তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, হাজার হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে, প্রায় ১ হাজার ৭০০ জনকে গুম করা হয়েছে এবং ৬০ লাখ নেতাকর্মীর নামে মামলা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “খালেদা জিয়ার নামে ৪৭টি মামলা দেওয়া হয়েছে, যার প্রতিটিই ছিল মিথ্যা। যে মামলায় তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়, সেটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য বিচারপ্রক্রিয়ার মধ্যে পড়ে না। বিচারব্যবস্থাকে ধ্বংস করে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একটি পরিত্যক্ত কক্ষে টানা দুই বছর তাকে চিকিৎসা ছাড়াই রাখা হয়। সুস্থ অবস্থায় তিনি কারাগারে গিয়েছিলেন, ফিরে এসেছেন হুইলচেয়ারে বসে। এরপর তিনি মারা গেলেন”—বলেন ফখরুল।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর খালেদা জিয়ার দেওয়া বার্তা দেশকে নতুন দিশা দেখিয়েছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব।
তিনি বলেন, “সে সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন। সরকার পতনের রাতে আমরা তার কাছে গিয়ে দেশের পরিস্থিতি তুলে ধরি। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়েছিল, মানুষকে কোনোভাবেই সামলানো যাচ্ছিল না। তখন তিনি তার বক্তব্যে প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধের রাজনীতি থেকে সরে এসে শান্তি ও ঐক্যের আহ্বান জানান। নতুন বাংলাদেশের জন্য সেই বার্তা ছিল এক বড় দিকনির্দেশনা।”
মির্জা ফখরুল বলেন, যিনি আজীবন প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন, তিনিই শান্তির বার্তা দিয়েছেন। “খালেদা জিয়ার কোনো তুলনা হয় না। তাকে কারও সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ নেই।”
অনুষ্ঠানে বিএনপির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও আবদুল মঈন খান। এ ছাড়া ১৮টি ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ শীর্ষ পর্যায়ের ব্যবসায়ী নেতারা উপস্থিত ছিলেন। দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।
পূর্বের পোস্ট :