বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ১০ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ও যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিনের মনোনয়ন পত্র শনিবার বৈধ ঘোষণা করেছেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা রেজাউল করিম।

সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

দুপুরে এনসিপি এক মিডিয়া রিলিজে জানায় জানায়, ঢাকা-১১ আসনের প্রার্থী নাহিদ, ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসিরুদ্দীন, ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী জাবেদ ও ঢাকা-১৮ আসনের এনসিপি প্রার্থী আরিফের মনোনয়ন পত্রে কোনো সমস্যা বা গড়মিল না থাকায় জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা তাদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে।

রামপুরা, বাড্ডা ও ভাটারা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১১ আসনে নাহিদের প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। কাইয়ুমের মনোনয়নপত্রও একই দিনে বৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং অফিসার। এই আসনে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপি জোট গঠনের আগে জামায়াত প্রার্থী ছিলেন আতিকুর রহমান। জোট গঠনের পর তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

অন্যদিকে মতিঝিল, শাহবাগ, রমনা, পল্টন ও শাহজাহানপুর এলাকা নিয়ে গঠিত আলোচিত ঢাকা-৮ আসনে এনসিপি প্রার্থী নাসিরুদ্দীনকে সমর্থন জানিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন। এই আসনে নাসিরুদ্দীনের শক্ত প্রতিপক্ষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। এছাড়া এই আসনে আলোচিত আরেক প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত মেঘনা আলম।

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন এই আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী। তাকে ১২ ডিসেম্বর পল্টনের বিজয়নগর এলাকায় দুর্বৃত্তরা গুলি করে মারাত্মক আহত করে এবং পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ইনকিলাব মঞ্চ পরবর্তীতে এই আসনে কোনো প্রার্থী ঘোষণা না করলেও হাদির থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এই আসনে এসেছেন বলে জানিয়েছে নাসিরুদ্দীন।

সবুজবাগ, খিলগাঁও, বাসাবো ও মুগদা এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-৯ আসনে শুরুতে এনসিপি মনোনীত প্রার্থী ছিলেন তাসনিম জারা। কিন্তু জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট গঠনে দ্বিমত পোষণ করে দল থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। পরবর্তীতে এই আসনে এনসিপি প্রার্থী হোন জাবেদ। জাবেদ মনোনয়ন বৈধতা পেলেও জারার মনোনয়ন অবৈধ ঘোষনা করেছে রিটার্নিং অফিসার। যদিও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার কথা জানিয়েছেন যারা। এই আসনের বিএনপি প্রার্থী দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাবিবুর রশিদ।

উত্তরা, তুরাগ ও ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের একাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৮ আসনে শুরুতে এনসিপি থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা ছিল নাসিরুদ্দীনের। জামায়াতের সঙ্গে জোট গঠনের পর এই নাসিরুদ্দীন ঢাকা-৮ এ গেলে ঢাকা-১৮ তে এনসিপির আরেক সদস্য আরিফ এই আসনে প্রার্থী হয়ে মনোনোয়ন বৈধতা পেয়েছেন। এই আসনের বিএনপি প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ২৯ ডিসেম্বর ছিল মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন। ৪ জানুয়ারির মধ্যে বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর প্রার্থিতা নিয়ে আপত্তি থাকলে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা যাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।