বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মঙ্গলবার বলেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া সহিংসতার ঘটনায় মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে; কোনো কারণে নির্বাচন বিলম্বিত হলে দেশে সংকট আরও বাড়বে।

“বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন অনেক পছন্দ করে। অথচ তারা ১৫ বছর ভোট দিতে পারেননি, ভোট দেয়ার আগ্রহ পায়নি। এই নির্বাচনে যখন মানুষের ভোট দেয়ার আগ্রহ তুঙ্গে তখনই দ্য ডেইলি এবং প্রথম আলোর মতো পত্রিকায় আগুন সহিংসতার ঘটনা ঘটলো, যা নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টা," বাংলাদেশ চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারে "স্টার ইলেকশন ডায়লগ, ইউর পার্টি ভোটারস কোয়েশ্চেন অনুষ্ঠানে বলেন ফখরুল।

ফখরুল জানান, মানুষ নির্বাচন নিয়ে উদ্বিগ্ন। অনেকেই ভাবছেন আদৌ বাংলাদেশে নির্বাচন হবে কিনা। তবে বিএনপি আশাবাদী— একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের পথে হাঁটতে চায় বিএনপি।

“অনেকেই আমাদের খোঁচা দিয়ে বলেছেন আমরা সবসময় নির্বাচন নির্বাচন করি। নিঃসন্দেহে আমরা নির্বাচনমুখী দল। দেশে নির্বাচিত সরকার না থাকার কারণেই এত অরাজকতা তৈরি হচ্ছে,” বলেন তিনি।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে ফখরুল জানান, এই ব্যবস্থাই বাংলাদেশে নির্বাচনে উপযোগী ব্যবস্থা— অথচ অধিকাংশ মানুষ এমনকি বিদেশিরাও এটি বুঝতে চাননি। বর্তমানে প্রমাণ হয়েছে কেয়ার টেকার সরকার ছাড়া বাংলাদেশে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের সংস্কার পদক্ষেপ নিয়ে বিএনপি দশ বছর আগে থেকে কথা বলে আসছে জানিয়ে ফখরুল বলেন, “আমরা ভিশন-২০৩০ এবং ৩১ দফায় যা যা বলেছি সেগুলোই পরবর্তীতে এই সরকারের সংস্কার কমিশনে এসেছে। অথচ অনেক আগে থেকেই এসবের দাবি করে এসেছে বিএনপি।”

দেশের অর্থনীতির দুরবস্থার প্রসঙ্গ টেনে ফখরুল জানান, বিএনপি ক্ষমতায় আসলেও রাতারাতি পরিবর্তন সম্ভব না। পাঁচ বছরের ক্ষমতার মেয়াদে ধীরে ধীরে অর্থনীতিকে ঢেলে সাজাতে হবে।

“এত বেশি মূল্যস্ফীতি— মানুষ বাজারে গেলে পাগল হয়ে যাচ্ছে। একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলা চাট্টিখানি ব্যাপার না। তবে এই অবস্থা থেকে উত্তরণের অভিজ্ঞতা একমাত্র বিএনপিরই আছে,” বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ নেতারা বিএনপিতে যোগ দিচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে ফখরুল বলেন, “এটা ভুল কথা। ভুলভাবে এটিকে উপস্থাপন করা হচ্ছে। বিএনপি ফ্যাসিবাদী দলের পুনর্বাসনে কোনো ধরণের সাহায্য করছে না।”

আওয়ামী লীগ আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের ৬০ লাখ মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে। নির্যাতন করে ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। আওয়ামী লীগকে প্রশ্রয় দেয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না বলে জানান তিনি।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে ফখরুল বলেন, বিএনপি সংখ্যালঘু শব্দটিতেই বিশ্বাস করে না। সবাই দেশের নাগরিক। সেই হিসাবেই তাদের অধিকার নিশ্চিত করার পক্ষে বিএনপি।

“আপনারা নিজেদের সংখ্যালঘু মনে না করে, নিজেদের দুর্বল না ভেবে অধিকার আদায়ে শক্তভাবে দাঁড়ান। বিএনপি আপনাদের পাশে আছে,” হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্যে বলেন ফখরুল।