স্বাধীনতার এত বছর পরেও দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে এখনো চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান; বলেন, ১৯৭১ সালে দেশ শত্রুমুক্ত হলেও আগ্রাসী শক্তি ও তাদের দেশীয় সহযোগীরা নানা কৌশলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতাকে বিপন্ন করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সোমবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ বিজয় অর্জন করে। এই দিনে জাতি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র পায়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সব বীর মুক্তিযোদ্ধার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পাশাপাশি স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকারকারী মা–বোনদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
পোস্টে বলা হয়, শোষণমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে বহুদলীয় গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়েই স্বাধীন রাষ্ট্রের যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বারবার ফ্যাসিবাদী শাসন সেই প্রত্যয়কে বাধাগ্রস্ত করেছে। একের পর এক একতরফা নির্বাচন, নাগরিক অধিকার হরণ এবং বাক ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সংকুচিত করার অভিযোগও করেন তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেছেন, গণতন্ত্রহীন ব্যবস্থায় নিরঙ্কুশ ক্ষমতার চর্চা দেশে ভয়, হতাশা ও নৈরাজ্য সৃষ্টি করে। ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে বিরোধী মত দমনে নিপীড়ন, গুম ও রাজনৈতিক মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করা এক অবিসংবাদিত নেত্রীকে অন্যায়ভাবে কারাবন্দী রাখা হয়েছিল। তবে মহান বিজয় দিবসের প্রেরণায় অনুপ্রাণিত হয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে ‘২৪-এর জুলাই–আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদী শাসনের পতন ঘটে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের মতে, এই প্রেক্ষাপটে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে একটি জনকল্যাণমুখী ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠা জরুরি। তিনি বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে বিভাজন ও হিংসা ভুলে মানুষকে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বিজয় দিবস উপলক্ষে তিনি দেশবাসী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের শুভেচ্ছা জানান এবং এ উপলক্ষে নেওয়া সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।
পূর্বের পোস্ট :