দেশের রাজনীতিতে সংবিধান বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। আজ বিকেলে খুলনার শিববাড়ি মোড়ে সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশ থেকে বাংলাদেশ জামায়াত-এ-ইসলামী-র আমীর ডা. শফিকুর রহমান তীব্র মন্তব্য করেছেন। 

তিনি অভিযোগ করেছেন, যারা ১৯৭২ সালের মূল সংবিধান-কে আঁকড়ে ধরার কথা বলছেন, তারা মূলত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর প্রতিষ্ঠিত আদর্শ ও নীতির বিরোধিতা করছেন।

জিয়াউর রহমানের আদর্শ ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা

ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তৃতায় বলেন, দেশে "দুর্নীতি ও দুঃশাসনের যুগ" পার হওয়ার পর জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এসে সংবিধানে মৌলিক পরিবর্তন এনেছিলেন। 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, "এখন কেউ যদি ৭২-এর সংবিধানের কথা বলে, তারা প্রকারান্তরে শহীদ রাষ্ট্রপতি-এর বিরুদ্ধেই কথা বলছে।"

তিনি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া-র অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে বলেন, খালেদা জিয়া নিজেও কখনোই ৭২-এর সংবিধানের পক্ষে অবস্থান নেননি। 

ডা. রহমান আশা করেন, এই দুই নেতাকে ভালোবাসেন এমন ব্যক্তিরা ৭২-এর সংবিধানের কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। এই বক্তব্যের মাধ্যমে জামায়াত আমীর কার্যত বিএনপি-জামায়াত জোটের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে আঘাত করেছেন, যারা ঐতিহাসিকভাবে ৭২-এর সংবিধানের পুনঃপ্রতিষ্ঠার দাবি করে আসছে।

জুলাই বিপ্লব ও গণভোটের হুঁশিয়ারি

সমাবেশের আরেক বক্তা, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে জুলাই বিপ্লব ২০২৪-এর মাধ্যমে সৃষ্ট দুটি শিবিরে ভাগ করে দেখান। তিনি বলেন—

একদিকে ১৯৭২ সালের বকশালপন্থি আদর্শে বিশ্বাসীরা।

অন্যদিকে ২০২৪ সালের বিপ্লবী শক্তিবর্গ।

মামুনুল হক স্পষ্ট ঘোষণা করেন, "রক্তের সমুদ্র পেরিয়ে জুলাই মাসে যে ফ্যাসিবাদকে উপড়ে ফেলা হয়েছে, তা আর বাংলার মাটিতে ফিরে আসবে না।" তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন যেন জাতীয় নির্বাচনের আগে জুলাই সনদের আইনি বৈধতার জন্য একটি গণভোট  আয়োজন করা হয়। তিনি সরকারকে হুঁশিয়ারি দেন, গণভোট না হলে "ইতিহাস ক্ষমা করবে না।"

বিচারহীনতা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

ডা. শফিকুর রহমান রাজনৈতিক কর্মসূচিতে আক্রমণের নিন্দা জানান এবং দেশের বিচার ব্যবস্থার সমালোচনা করেন। তার মতে, "গ্রাম আদালত থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত," প্রভাবহীন ব্যক্তিরা বাংলাদেশে ন্যায়বিচার পান না।

তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু ব্যক্তি "ক্ষমতায় না থেকেও ক্ষমতার অহংকার প্রদর্শন" করছে এবং আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছে। তিনি তরুণদের আশ্বাস দেন যে সমমনা দলগুলো "নিপীড়িতদের বিজয়ের" জন্য শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম (পীর সাহেব চরমোনাই) এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুফতি মুসা বিন ইজহারসহ অন্যান্য জোট নেতারা।