প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বুধবার জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক সংকট সৃষ্টি হলেও সংকট সামাল দেয়ার অভিজ্ঞতা ও পাশাপাশি দুই শতাংশ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের রাজনৈতিক ইতিহাস বিএনপি সরকারের আছে।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তরান্বিত করা ও সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নের হাতিয়ার হিসেবে অর্থনৈতিক কৌশল প্রণয়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদানের জন্য গঠিত এডভাইজারি কমিটির প্রথম সভা শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, অবাস্তব অর্থনৈতিক প্রকল্প এই সরকার নেবে না। ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যেসব অর্থনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়নযোগ্য সেগুলো নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাবে সরকার। অর্থনীতিকে গণতান্ত্রিক করতে হবে এবং জনবান্ধব অর্থনৈতিক কৌশল সাজানো হবে। 

প্রতিবারই বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর সংকটের সম্মুখীন হয়েছে কিন্তু সেই সংকট মোকাবেলা করে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, “সত্তরের দশকে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সংকট আর দেশের দুর্ভিক্ষ পরবর্তী অর্থনৈতিক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জন্য ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন দ্বার উন্মোচন করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রপ্তানি করে রেমিট্যান্সের ভিত রচনা করেছেন। নব্বইয়ের দশকে পোশাকশিল্পে বিপ্লব ঘটেছে খালেদা জিয়ার হাত ধরে। বাংলাদেশ অর্থনীতির প্রধান দুটি ভিত বিএনপি সরকারের হাত ধরেই হওয়া।”

তিতুমীর জানান, “সত্তরের দশকে অনেক অর্থনীতিবিদ বলেছেন এই সংকট সামাল দেয়া যাবে না। তখনও বিএনপি সংকট সামাল দিতে পেরেছে এখনও পারবে। বিএনপির ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে সংকট সামাল দেয়ার সক্ষমতা বিএনপি সরকারের সবসময় ছিল।”

বিএনপি সরকার আগের মেয়াদে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হার যেখানে রেখে গিয়েছিল এত বছরেও সেটি একদমই বাড়েনি উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, “নিরপেক্ষ পরিসংখ্যান বিবেচনা করলে দেখা যায়, যেখানে অর্থনৈতিক অবস্থান বাংলাদেশের ছিল বিএনপি সরকার চলে যাওয়ার পর সেখান থেকে আর বাড়েনি। এখন আবার বিএনপি সরকার ক্ষমতায়। যখনই বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে তখনই প্রবৃদ্ধির হার ২ শতাংশ করে বেড়েছে।”

অর্থনৈতিক একের পর এক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও বিএনপি তার প্রতিশ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির সবকটি ইশতেহারের ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিতুমীর বলেন, “সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আগে ছিল রাজনৈতিক। নিজের দলের লোকদের এবং যাদের সুবিধার দরকার নেই তাদেরকেও এসব সুবিধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু বিএনপি এখানে সামজিক বিপ্লব ঘটিয়েছে। আসল প্রাপ্যদের সুবিধার মধ্যে নিয়ে এসেছে। কৃষক তার ন্যায্য অধিকার পেয়েছে। ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে নারী তার সম্মান পেয়েছে। এটিই প্রমাণ করে বাংলাদেশ ধাপে ধাপে একটি কল্যাণকর রাষ্ট্রের দিকে যাচ্ছে।”

উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে একেবারে প্রথম সারিতে বাংলাদেশ আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এ উপদেষ্টা জানান, কোনো কল্পিত কথা না, বাস্তবতার নিরিখেই বাংলাদেশ নিজের উন্নয়ন ঘটাচ্ছে। “সুখপাঠ্য রচনা লিখছে না বিএনপি। বয়ানের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখছে না উন্নয়নকে। ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করে সামনের দিকে যাত্রা শুরু করেছে সরকার।”

সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিতুমীর জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট পরিস্থিতে জ্বালানির দাম সমন্বয় করবে সরকার কিন্তু তড়িঘড়ি কোনো সিদ্ধান্ত নেবে না। যাতে মূল্যস্ফীতি না বাড়ে ও বোরো মৌসুমে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখে দাম সমন্বয় করা হবে।

গত তিন বছরে নূন্যতম ৯০ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জানান, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময়ে তৎকালীন সরকার গ্যাসের দাম না বাড়ালেও পরবর্তীতে নানা অযুহাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে যার প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের ওপরে। বর্তমান বিএনপি সরকার জনগণের কাছে দায়বদ্ধ তাই জনগণের কল্যাণের কথা চিন্তা করেই সিদ্ধান্ত নিবে।

ভবিষ্যতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে জ্বালানি সংরক্ষণে কৌশলগত নীতি প্রণয়ন ও দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানো হবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।