অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ব্যাংক রেজুলেশন অধ্যাদেশ বিল আকারে জাতীয় সংসদে পাসের সময় নতুন একটি ধারা যুক্ত করার পেছনে ‘বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন’ থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
দলটির কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, নতুন ওই ধারার ফলে একীভূত হওয়া দুর্বল ব্যাংকগুলোর পুরোনো শেয়ারধারীদের ফেরার পথ খুলে দেওয়া হয়েছে, যা অর্থখাতের জন্য উদ্বেগজনক।
সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ মন্তব্য করেন তিনি।
শিশির মনির বলেন, “আমরা মনে করি, এভাবে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানি মার্কেটকে আবারও করায়ত্ত করার সুযোগ দেওয়া উচিত নয়। যারা ভুক্তভোগী, তাদের সম্পদ তাদের কাছেই ফিরিয়ে দেওয়া দরকার।”
তিনি অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একীভূত করা পাঁচটি ব্যাংককে ‘ব্যাংক রেজুলেশন বিল, ২০২৬’-এর মাধ্যমে আবার পুরোনো মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
তার ভাষায়, “এই আইনের ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক সন্তুষ্ট হলে আগের মালিক বা অন্য কোনো ব্যক্তির কাছে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়ার পথ তৈরি হয়েছে।”
এই জামায়াত নেতা আরও বলেন, “আমরা মনে করি, এই রেজুলেশন বাতিল বা পরিবর্তনের পেছনে শুধু সরকার নয়, বড় ধরনের আর্থিক লেনদেন জড়িত থাকতে পারে।”
‘ব্যাংক ডাকাতদের’ ফেরার সুযোগ?
নতুন ধারার সমালোচনা করে শিশির মনির বলেন, “যারা ব্যাংক লুট করেছে, আমানতকারীদের টাকা নিয়ে গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান আগের আইনে ছিল। কিন্তু নতুন আইনে সেই বিষয়গুলো বাদ দিয়ে আবার তাদের কাছেই ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।”
তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ভুয়া কোম্পানির মাধ্যমে ঋণ নেওয়ার ঘটনাও তদন্তে উঠে এসেছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, “বিকল্প কোম্পানি তৈরি করে অল্প শেয়ার নিয়ে বোর্ডে প্রভাব বিস্তার করে পরে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল। এখন সেই গোষ্ঠীর হাতেই আবার ব্যাংকের শেয়ার ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।”
সরকারের প্রতি আহ্বান
শিশির মনির বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে বিতর্কিত ধারা বাতিল করে আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এবং দলটির নেতা নাজিবুর রহমান মোমেন।
ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের মতামত বিবেচনায় নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
পূর্বের পোস্ট :