ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) ঋণ শ্রেণিকরণের বর্তমান সময়সীমা তিন মাস থেকে ছয় মাসে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছে। সোমবার বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে বৈঠকে এই দাবি জানান ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ ও সংগঠনের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।
ঋণ পরিস্থিতি ও সমস্যা
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমে ৬ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশে নেমেছে, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। নীতি সুদের হার ১০ শতাংশ হলেও ব্যাংক থেকে লোনের সুদের হার ১৬–১৭ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ঋণ সংগ্রহ ক্রমেই ব্যয়বহুল ও অনেক ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়ছে।
তিনি বলেন, “ঋণ শ্রেণিকরণ নীতিমালা ৯ মাস থেকে ৩ মাসে নামিয়ে আনা, ব্যবসা পরিচালনায় উচ্চ ব্যয়, জ্বালানি সংকট এবং কম চাহিদার মতো সমস্যা ব্যবসায়ীদের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়াচ্ছে। তাই ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা অন্তত ৬ মাস পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন।”
সাথে তিনি লক্ষ্যভিত্তিক ভর্তুকিযুক্ত ঋণসুবিধা চালুরও প্রস্তাব দেন, বিশেষ করে উৎপাদনশীল খাত, রপ্তানিমুখী শিল্প এবং এসএমই খাতের জন্য।
বাংলাদেশ ব্যাংকের অবস্থান
গভর্নর মোস্তাকুর রহমান বৈঠকে বলেন, দেশের অর্থনীতি কয়েকটি নির্দিষ্ট পণ্য, সেবা ও রপ্তানি বাজারের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণ ছাড়া এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব নয়। বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে সিএসএমই খাত ও কৃষি ব্যবস্থাপনার ওপর, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতি দেবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে।
তিনি উল্লেখ করেন, লজিস্টিকস ও পণ্য ব্যবস্থাপনায় ব্যয় বেশি থাকার কারণে মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে উঁচু রয়েছে। এছাড়া জিডিপি প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক নয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ ও স্থানীয় বিনিয়োগ সম্প্রসারণে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
গভর্নর বলেন, “বিজনেস-অপারেশন খরচ হ্রাস এবং নীতিমালা সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনাই একমাত্র বিকল্প।”
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন
ডিসিসিআইর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী, সহ-সভাপতি সালিম সোলায়মান এবং পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
পূর্বের পোস্ট :