মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশে সামাল দিতে জ্বালানি তেল আমদানি ২৫ শতাংশ বাড়ানো হচ্ছে বলে সোমবার জানিয়েছেল জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।
“জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে বিশ্বব্যাপী শঙ্কা থাকলেও বাংলাদেশে আপাতত কোনো সংকট নেই। আগাম প্রস্তুতি হিসেবে জ্বালানি আমদানি ২৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার,” দুপুরে ঢাকায় নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, পর্যাপ্ত পরিমাণে জ্বালানি মজুত নিয়ে জাহাজ বন্দরে ভিড়ছে। কোনোভাবেই যেন সরবরাহ ব্যহত না হয় সেদিকে সরকার সর্বোচ্চ নজর দিচ্ছে।
বাড়তি দামে জ্বালানি কিনলেও দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বিবেচনায় সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “স্পট মার্কেট থেকে বাড়তি দামে জ্বালানি কিনে ভর্তুকি দিয়ে কম দামে মানুষের কাছে বিক্রি করছে সরকার। যুদ্ধ কতদিন চলবে বলা মুশকিল। সরকার যতদিন সম্ভব ভর্তুকি দিয়ে যাবে।”
হরমুজ প্রণালী থেকে তেল সরবরাহ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “স্বাভাবিক নিয়মে হরমুজ প্রণালী থেকে জাহাজ চলাচল করতে পারছে না। বিশেষ অনুমতি নিয়ে জাহাজ চলাচল করতে হচ্ছে। এতে করে স্বাভাবিক সরবরাহ কিছুটা হলেও বিঘ্নিত হচ্ছে।”
জ্বালানি মজুত প্রসঙ্গে ইকবাল জানান, দেশের মানুষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে মজুত বাড়লে কমলেও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহের কারণে এখনো বড় কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি।
দেশের মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা প্যানিক বায়িং বন্ধ করেন। যার যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই জ্বালানি নিন। প্যানিক বায়িং এর কারণে ডিপো ও পাম্পগুলোতে চাপ বাড়ছে।”
সরেজমিনে ঢাকার পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা যায়, এখনো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে জ্বালানি নেয়ার জন্য অপেক্ষা করছে যানবাহন। অনেক পেট্রোল পাম্পে অতিরিক্ত জ্বালানি সরবরাহ করার কারণে তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় পাম্প সাময়িক সময়ের জন্য বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে করে ক্রেতাদের মধ্যে প্যানিক বায়িং আরও বাড়ছে।
পূর্বের পোস্ট :