পুরো সপ্তাহজুড়ে লেনদেনে দেশের দুই প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সামগ্রিক লেনদেন কমলেও বেড়েছে সবকটি সূচক।
ডিএসই'র উইকলি রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সারা সপ্তাহের লেনদেনে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৩৪ পয়েন্ট, যা এর আগের সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২.৫ শতাংশ বেশি এবং ২০২৫ সালে একই সময়ের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি।
সূচকের উত্থানে ৫৪৬৫ পয়েন্ট নিয়ে লেনদেন শুরু হওয়া ডিএসইএক্স বেড়ে হয়েছে ৫৬০০ পয়েন্ট। সূচক বেড়েছে শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস; পুরো সপ্তাহে ২১ পয়েন্ট সূচক বেড়েছে, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় ২ শতাংশ বেশি।
অন্যদিকে ব্লুচিপ সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ৭১ পয়েন্ট, যা গত সপ্তাহের তুলনায় প্রায় সাড়ে তিন শতাংশ বেশি এবং ২০২৫ সালে একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেশি।
ডিএসইতে সবকটি সূচক বাড়লেও কমেছে সামগ্রিক লেনদেন। সপ্তাহজুড়ে প্রতিদিনকার গড় লেনদেনের পরিমাণ ছিল ৭২৪ কোটি টাকা, যা এর আগের সপ্তাহে ছিল ১০৫০ কোটি টাকা। এক সপ্তাহের ব্যবধানে লেনদেন কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
দাম বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির; ২৭৪ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৮৩ ও অপরিবর্তিত আছে ৩২ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
খাতভিত্তিক শেয়ারের বাজার পর্যালোচনা করে দেখা যায়, দাম কমেছে প্রায় সবকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতের শেয়ারের। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে এই এক সপ্তাহে শেয়ারের দাম কমেছে ২৪ শতাংশ এবং ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে দাম কমেছে ৩৫ শতাংশের বেশি।
এছাড়া বীমা খাতের শেয়ারেরও দাম কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। সাধারণ বীমাখাতভুক্ত কোম্পানিগুলোর দাম কমেছে ৬০ শতাংশ ও জীবন বীমাখাতভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে ৪০ শতাংশ।
ডিএসইতে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে সিটি ব্যাংক, অলিম্পিক, ব্র্যাক ব্যাংক, রবি, খান ব্রাদার্স ও ওরিয়ন ইনফিউশনের শেয়ার। ব্লক মার্কেটে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে ওলিম্পিক। জিপি, ওরিয়ন ইনফিউশন ও সামিট অ্যালায়েন্সের শেয়ার।
দরবৃদ্ধিতে ডিএসইতে এগিয়ে আছে লভ্যাংশ না দেয়া খারাপ কোম্পানির শেয়ার নামে খ্যাত জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি। শীর্ষ ১০ কোম্পানির মধ্যে নয়টিই জেড ক্যাটাগরির ও একটি বি ক্যাটাগরির। অর্থাৎ সপ্তাহজুড়ে সূচক বাড়লেও বিনিয়োগকারীরা ভালো কোম্পানির শেয়ারে অর্থলগ্নি না করে কিনেছেন খারাপ কোম্পানির ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ার।
অন্যদিকে দরপতনের তালিকায় শীর্ষ দশে থাকা কোম্পানিগুলোর মধ্যে সাতটিই সর্বোচ্চ লভ্যাংশ দেয়া ভালো কোম্পানির শেয়ার নামে খ্যাত এ ক্যাটাগরির শেয়ার।
সূচক ও বেশিরভাগ কোম্পানির দাম বেড়েছে সিএসইতে; সার্বিক সূচক সিএএসপিআই বেড়েছে ২৪৮ পয়েন্ট।
বাকি দুই ব্লুচিপ সূচক সিএসই৩০ ও সিএসই৫০ বেড়েছে যথাক্রমে ২৮৭ পয়েন্ট ও ২৫ পয়েন্ট। এছাড়া শরীয়াভিত্তিক কোম্পানির সূচক বেড়েছে ৭ পয়েন্ট।
১৫০ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১০৭ ও অপরিবর্তিত আছে ২৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই'র মতো সিএসইতেও দরবৃদ্ধির তালিকায় এগিয়ে আছে জেড ক্যাটাগরির কোম্পানি। শীর্ষ দশে নয়টিই জেড ক্যাটাগরির ও বাকি একটি বি ক্যাটাগরির। অন্যদিকে পতনের দশটিতে ছয়টিই এ ক্যাটাগরির।
সিএসইতে সপ্তাহজুড়ে সবচেয়ে বেশি লেনদেন হয়েছে ফাইন ফুডস, ওরিয়ন ইনফিউশন, সিটি জেনারেল ইনস্যুরেন্স, এমএল ডাইং, লাভেলো আইসক্রিম ও প্যারামাউন্ট টেক্সটাইলের শেয়ার।
পূর্বের পোস্ট :