চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-কে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতি চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায়) সকাল ৮টা থেকে বন্দরে শুরু হয়েছে টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি। ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’-এর ডাকে এই কর্মসূচির কারণে বন্দরের বিভিন্ন জেটিতে অবস্থানরত জাহাজ থেকে কন্টেইনার ও খোলা পণ্য ওঠানো-নামানোসহ সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে।
সকাল থেকে পণ্য পরিবহনের জন্য কোনো যানবাহন বন্দরের ভেতরে প্রবেশ করেনি। একই সঙ্গে বন্দরের যন্ত্রপাতিও বন্ধ রয়েছে। শ্রমিক-কর্মচারীদের এই কর্মবিরতি বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ও বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের নেতা মো. হুমায়ুন কবীর বলেন, বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের কাজকর্ম হচ্ছে না।
তিনি বলেন, সকাল থেকে শ্রমিক-কর্মচারীরা দাবির প্রতি একমত হয়ে কাজে অংশ নিচ্ছেন না। এদিন কোনো জাহাজ বন্দরে আসেনি বা বন্দর ছেড়ে যায়নি। বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম কার্যত বন্ধ রয়েছে।
বন্দরের এক বার্থ অপারেটর জানান, অন্যান্য দিনের মতো মঙ্গলবারও কাজের জন্য শ্রমিকদের বুকিং দেওয়া সম্ভব হয়নি। জেনারেল কার্গো বার্থে কোনো কাজ হচ্ছে না। টানা কর্মবিরতির কারণে তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
এর আগে এনসিটি ইজারা ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ‘বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’ শনিবার থেকে সোমবার পর্যন্ত প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালন করে। সোমবার কর্মসূচি শেষে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়।
এদিকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া কর্মচারীদের অন্য বন্দরে বদলির ঘটনাও ঘটছে। সোমবার আন্দোলনরত আরও ১৫ কর্মচারীকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক অফিস আদেশে এই বদলির তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বদলির কারণ হিসেবে ‘দাপ্তরিক প্রয়োজন’-এর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :