বাংলাদেশে পাঁচটি সমস্যা-গ্রস্ত ইসলামী ব্যাংক একত্রিত হয়ে ‘সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক’ হিসাবে কার্যক্রম শুরু করেছে। এর ফলে বহু মাসের অনিশ্চয়তার পর গ্রাহকরা অবশেষে তাদের টাকা তোলার সুযোগ পাচ্ছেন।

২০২৬ সালের শুরু থেকে কার্যকর এই একত্রীকরণে এক্সিম ব্যাংক, সোশাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক একক প্রতিষ্ঠানে মিলিত হয়েছে। ঢাকার শাখাগুলোতে পুরনো সাইনবোর্ড সরিয়ে নতুন ব্যানার দেওয়ার মাধ্যমে নতুন সূচনার বার্তা দেওয়া হয়েছে।

গ্রাহকদের মধ্যে এই পুনরায় তহবিল ব্যবহারের সুযোগে স্বস্তি ফিরে এসেছে। ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার গ্রাহক মনির হোসেন বলেন, “এতোদিন পরে অবশেষে আমার টাকা তুলতে পারছি। এটা আমার জন্য খুবই জরুরি ছিল।”

বাংলাদেশ ব্যাংক উত্তোলনের জন্য একটি নিয়মকানুন চালু করেছে:

টাকা ২ লাখ পর্যন্ত: সম্পূর্ণ সুরক্ষিত, যেকোনো সময় উত্তোলন করা যাবে।

টাকা ২ লাখের বেশি: প্রতি তিন মাসে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা উত্তোলন সম্ভব, দুই বছরের মধ্যে।

বিশেষ ছাড়: ৬০ বছরের বেশি বয়সী এবং গুরুতর অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসার জন্য সীমার বাইরে টাকা উত্তোলন করার অনুমতি থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫ সালের সার্কুলারের মাধ্যমে জানানো হয়েছে, এই পাঁচটি ব্যাংকের সব সম্পদ, দায় ও চুক্তি এখন সাম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের অধীনে স্থানান্তরিত হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছে যে, তাদের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। যারা এখনই উত্তোলন করবেন না, তারা মার্কেট ভিত্তিক লাভ উপার্জন অব্যাহত রাখতে পারবেন এবং ব্যালেন্সের বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগও পাবেন।

এই একত্রীকরণ দেশের ব্যাংকিং খাতকে স্থিতিশীল করার এবং জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার অংশ।