যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধি ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণে কঠোরতার সুফলে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বড় ধরনের আর্থিক সাফল্য পেয়েছে। এ সময়ে সংস্থাটির নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৮৫ কোটি ২১ লাখ টাকা, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ১৭৮ শতাংশ বেশি।

একই অর্থবছরে বিমানের অপারেশনাল মুনাফা হয়েছে ১ হাজার ৬০২ কোটি টাকা। আর মোট আয় দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৫৫৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের তুলনায় ৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ বেশি এবং সংস্থাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।

বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোশরা ইসলাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, টানা পঞ্চম বছরের মতো লাভের ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে বিমান। গত দশ অর্থবছরের মধ্যে নয় বছরই সংস্থাটি মুনাফা অর্জন করেছে।

এই আর্থিক প্রতিবেদন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-তে উপস্থাপন করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান স্ক. বশির উদ্দিন। বোর্ড সদস্য ও শেয়ারহোল্ডারদের পাশাপাশি অর্থ মন্ত্রণালয়, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিমান ২১টি উড়োজাহাজ দিয়ে দেশি ও আন্তর্জাতিক মিলিয়ে ৩০টি গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা করে। এ সময়ে সংস্থাটি ৩৩ লাখ ৮৩ হাজার যাত্রী পরিবহন করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১ শতাংশ বেশি।

কার্গো খাতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে বিমান। বছরে ৪৩ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন কার্গো পরিবহনের মাধ্যমে সংস্থাটি ৯২৫ কোটি টাকা আয় করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৪৫ দশমিক ২১ শতাংশ বেশি।

এ ছাড়া বিমান ৩১ হাজার ১১২টি বিদেশি এয়ারলাইনের ফ্লাইটে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা দিয়েছে। এসব ফ্লাইটে ৬১ লাখের বেশি যাত্রীকে সেবা দেওয়া হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স একটি সম্পূর্ণ স্বনির্ভর রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠার ৫৪ বছরের ইতিহাসে সংস্থাটি কখনোই সরকারি ভর্তুকি নেয়নি।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বিমান ইতিহাসের সর্বোচ্চ টিকিট বিক্রির রেকর্ড গড়ে। কর্তৃপক্ষের মতে, দ্রুত ব্যাগেজ ডেলিভারি, উন্নত ইন-ফ্লাইট সেবা এবং আধুনিকায়িত বিমানবন্দর প্রক্রিয়া যাত্রী সন্তুষ্টি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও আন্তর্জাতিক মান কঠোরভাবে অনুসরণ করছে বিমান। বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, ফ্লিট আধুনিকায়ন, লাভজনক আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণ এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নই সাম্প্রতিক এই সাফল্যের প্রধান কারণ।