ঢাকার আগাঁরগাওয়ে বুধবার শুরু হলো আবাসন ব্যবসায়ীদের সংগঠন রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) আয়োজনে রিহ্যাব মেলা-২০২৫।
বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ কনফারেন্স সেন্টারের রিহ্যাব ফেয়ারের উদ্বোধন করেন রাজউকের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোঃ রিয়াজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) এর চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম।
৪ দিন ব্যাপী এ মেলা চলবে ২৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এবারের ফেয়ারে ২২০টি স্টল থাকছে। রিয়েল এস্টেট প্রতিষ্ঠান ছাড়াও বিল্ডিং ম্যাটেরিয়ালস ও অর্থলগ্নীকারী প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিয়েছে রিহ্যাব।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, একটি দশে গড়ে তুলতে ভবন নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত উদ্যোক্তা ও নির্মাণকারীরা গুরুত্বর্পূণ ভূমকিা পালন করনে। আবাসন খাতে নানা পেশাজীবী সংগঠন যুক্ত থাকলেও বাস্তবে ভবন নির্মাণের মূল দায়িত্ব উদ্যোক্তা ও নির্মাতাদরেই।
রাজউক চেয়ারম্যান বলনে, “আজ যদি কোনো প্লট মালকিকে নিজের টাকায় বাড়ি নির্মাণ করতে বলা হয়, তাহলে ঢাকা শহরে কয়টি ভবন আদৌ তৈরি হতো—তা ভাবনার বিষয় । র্দীঘদনি ধরে আবাসন খাত নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে আবাসন ব্যবসা কিছুটা মন্দা থাকলেও এটি স্থায়ী নয়, সুদিন অবশ্যই ফিরে আসবে।
ডেভেলপারদরে বিষয়ে প্রচলতি ভুল ধারণার কথা তুলে ধরে রিয়াজুল ইসলাম বলেন, “অনেকে মনে করেন ডেলেপাররা শুধু নিজেদের ব্যবসার কথা ভাবেন। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি ,এই ধারণা সঠিক নয়। হয়তো হাতে গোনা কয়েকজন ব্যতিক্রম থাকতে পারেন, তবে সবাই একটি সুন্দর, পরিকল্পিত ও নিয়মের মধ্যে গড়ে ওঠা শহরই চান।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ (এনএইচএ) এর চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম, নিয়ম অনুযায়ী ভবন তৈরির কথা বলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রিহ্যাব প্রেসিডেন্ট মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান সদস্য এবং ক্রেতাদের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে এই ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে উল্লেখ করে বলেন, “অর্থনৈতিক অগ্রগতির সাথে সাথে মানুষের ভাল জায়গায় সুন্দর একটি ফ্ল্যাট নিয়ে থাকার আগ্রহ বাড়ছে। আমরা নাগরিকদের স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছি।
রিহ্যাব এর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত্ আলী ভুইয়া আবাসন খাতের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন নাগরিকের পক্ষে হাউজিং লোন ছাড়া ফ্ল্যাট বা প্লট ক্রয় করা প্রায় অসম্ভব। ক্রেতারা যাতে খুব সহজে এই ঋণ পেতে পারে সেই ব্যবস্থা করার জানি জানান তিনি। পরিকল্পিত ও আধুনিক বাসস্থান তৈরিতে গৃহঋণের অবদান অনস্বীকার্য।
প্রতিদিন সকাল ১০ থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ক্রেতা দর্শনার্থীরা মেলায় প্রবেশ করতে পারবেন। মেলায় দুই ধরনের টিকিট থাকছে। একটি সিঙ্গেল এন্ট্রি অপরটি মাল্টিপল এন্ট্রি। সিঙ্গেল টিকিটের প্রবেশ মূল্য ৫০ টাকা। আর মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিটের প্রবেশ মূল্য ১০০ টাকা। মাল্টিপল এন্ট্রি টিকিট দিয়ে একজন দর্শনার্থী মেলার সময় ৫ বার প্রবেশ করতে পারবেন। এন্ট্রি টিকিটের প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ দুঃস্থদের সাহায্যার্থে ব্যয় করা হবে। এবছর প্রতিদিন র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে রিহ্যাব।
পূর্বের পোস্ট :