ভ্যাটের বিভিন্ন রকম রেট ও ভ্যাট আইন জটিল হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আব্দুর রহমান খান।

মঙ্গলবার ‘ভ্যাট দিবস ও ভ্যাট সপ্তাহ, ২০২৫’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজস্ব সংগ্রহ ব্যবস্থা আমদানি নির্ভর হওয়ায় চাপ পড়ছে সাধারণ মানুষের ওপর। এ চাপ কমাতে আয়কর ও ভ্যাটের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে জোর দিচ্ছে এনবিআর।

এবার ১ লাখ নতুন ভ্যাট রেজিষ্ট্রেশনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এনবিআর— জানান চেয়ারম্যান।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৯১ সালের ভ্যাট আইন জটিল হওয়ায় ২০১২ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আবার নানা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তাই এবার ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করতে বিভিন্ন হারের পরিবর্তে একক হার বা ‘সিঙ্গেল রেট’ চালুর চেষ্টা করা হবে। ভ্যাট সহজ করা গেলে অটোমেশনও সহজ হবে-কারণ অতিরিক্ত জটিল প্রক্রিয়া মেশিনেও সঠিকভাবে পরিচালনা করা কঠিন। 

“ব্যবসায়ীদের বুঝতে হবে-ভ্যাট তারা দেন না; এ ভ্যাট দেন ভোক্তারা। তাই পুরো প্রক্রিয়া অটোমেটেড করা গেলে রাজস্ব সংগ্রহ অনেক বাড়বে,” আশাবাদ ব্যক্ত করেন আব্দুর রহমান।

জিডিপির বড় অংশকে এখনো কর-নেটে আনা সম্ভব হয়নি-সে জায়গায় কাজ চলছে। রাজস্ব আদায় বাড়ানো না গেলে রাষ্ট্রীয় সেবা টেকসই হবে না। বিশেষ করে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে এগিয়ে নিতে হলে টেকসই রাজস্ব সংগ্রহ অপরিহার্য বলে জানান তিনি।

“ভবিষ্যতে ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য এনবিআর নিজস্ব সিস্টেম তৈরি করে দেবে। আইন-কানুন সহজ করা গেলে এবং অডিট প্রক্রিয়া ডিজিটাল হলে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ আরও বাড়বে। ভ্যাট রিফান্ড অটোমেশন প্রায় শেষ পর্যায়ে আছে-এটি চালু হলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের সুবিধা হবে,” বলেন তিনি।

কাস্টমসে ব্যবসায়ীদের চাপ কমানো প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান জানান, অটোমেটেড সিস্টেম থাকার পরও যদি ব্যবহার না করা হয়, তবে কাঙ্ক্ষিত ফল আসবে না। এসাইকুডা সিস্টেমেও কিছু জটিলতা রয়েছে-এগুলো দূর করা গেলে আমদানিকারক ও রফতানিকারকদের আর কাস্টমসে ভিড় করতে হবে না।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বর্তমান ডিউটি স্ট্রাকচার রাখা যাবে না। তাই প্রতিবছর শুল্ক কাঠামো কমানোর প্রচেষ্টা চলছে। ভবিষ্যতে কাস্টম হাউজ রাজস্ব আদায়ের চেয়ে নিরাপত্তা ও নিষিদ্ধ পণ্য নিয়ন্ত্রণে বেশি গুরুত্ব দেবে। 

“ব্যাংকিং খাত থেকে বড় ধাক্কা এসেছে-করপোরেট ট্যাক্সও কাঙ্ক্ষিত আদায় হয়নি। বাজেটের আকার ছোট হওয়ায় উন্নয়ন বরাদ্দও কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে রাজস্ব অর্জনে। তবুও সব সংকটের মধ্যেও নভেম্বরের শেষে রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ১৬ শতাংশের ওপরে থাকবে”, প্রত্যাশা করেন আব্দুর রহমান। 

যারা কর ফাঁকি দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হয়েছে-এবং এ বাড়তি গ্রোথ ফাঁকি রোধের মাধ্যমেই অর্জিত হয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যান বলেন, রেভিনিউ লিকেজ বন্ধ করা গেলে ভ্যাট ও আয়কর থেকে আদায় আরও বাড়বে। একই সঙ্গে বৈষম্যহীন কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে-যিনি বেশি আয় করবেন তিনি বেশি দেবেন, আর যাদের আয় নেই-তাদের ওপর কোনো চাপ থাকবে না।