কিয়েভ জানিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ শেষ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে একটি সম্মিলিত বোঝাপড়ায় পৌঁছানো গেছে।

গত সপ্তাহে ২৮ দফার একটি পরিকল্পনা ইউক্রেনের হাতে তুলে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, এ প্রস্তাব মেনে নিতে ইউক্রেনের হাতে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সময় আছে। এ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে সপ্তাহান্তে জেনেভায় বসেন মার্কিন ও ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, উভয় পক্ষের বাড়তি পরামর্শের ভিত্তিতে মূল পরিকল্পনাটি আরও সূক্ষ্মভাবে সংশোধন করা হয়েছে। তিনি জানান, তাঁর বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফকে মস্কোতে প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে সেক্রেটারি অব দ্য আর্মি ড্যান ড্রিসকল ইউক্রেনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন।

এদিকে ক্রেমলিন জানিয়েছে, পরিকল্পনার সংশোধনী নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। তারা সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত মূল পরিকল্পনায় মস্কো সমর্থন দিলেও মৌলিক পরিবর্তন এলে পরিস্থিতি ‘ভিত্তিগতভাবেই ভিন্ন’ হয়ে যাবে।

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ক্রেমলিন সংশোধিত পরিকল্পনার কোনো অনুলিপি পায়নি। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন শান্তি উদ্যোগ ইউরোপকে দুর্বল করতে পারে।

মার্কিন কর্মকর্তারা রাশিয়ার উদ্বেগ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি। ড্যান ড্রিসকল ও রাশিয়ার প্রতিনিধিরা গত সোম ও মঙ্গলবার আবুধাবিতে বৈঠক করেছেন। ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও পূর্বাঞ্চলের সংঘাতপূর্ণ কয়েকটি অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণসহ বেশ কিছু ইস্যুতে এখনো সমঝোতা হয়নি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ‘সংবেদনশীল বিষয়গুলো’ নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তাঁর লক্ষ্য, চলতি মাসের মধ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক আয়োজন করা। তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়।’

হোয়াইট হাউস এখনো ট্রাম্পের ইউক্রেনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি জেলেনস্কি ও পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে আগ্রহী—তবে শুধু তখনই, যখন যুদ্ধ সমাপ্তির চুক্তি চূড়ান্ত হবে বা খুব কাছাকাছি পৌঁছাবে।