ঘূর্ণিঝড় দিতওয়ার প্রভাবে ভারি বর্ষণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত ৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও ২১ জন। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির বিভিন্ন গণমাধ্যম।

বিবিসি বলছে, সাম্প্রতিক কয়েক বছরে আবহাওয়াজনিত এমন ভয়াবহ দুর্যোগ দেশটি দেখেনি।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র (ডিএমসি) জানায়, মধ্যাঞ্চলীয় বাদুল্লা জেলায় ভূমিধসে ঘরের ভেতর চাপা পড়ে ২১ জন নিহত হয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা ভিডিওতে ছোট-বড় শহরে ঘরবাড়ি বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, ঝড় দিতওয়া শুক্রবার সকাল ৮টায় ত্রিণকোমালের প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থান করছিল, এবং কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি আরও উত্তর–উত্তরপশ্চিমে সরে যেতে পারে।

ডিএমসি জানায়, ১২ হাজার ৩১৩টি পরিবারের ৪৩ হাজার ৯৯১ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ঝড়ে ৪টি বাড়ি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে এবং অন্তত ৬৬৬টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত।

ভারিবৃষ্টির কারণে কেলানি নদী উপত্যকার নিচু এলাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বড় বন্যার আশঙ্কা করছে সেচ বিভাগ।

এদিকে শুক্রবারও দেশব্যাপী ভারিবৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

গভীর নিম্নচাপ থেকে শক্তি সঞ্চয় করে দিতওয়া এখন ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়েছে এবং এটি ভারতের কোথাও আঘাত হানতে পারে।

ডিএমসি নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে নিচু এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত উঁচু জায়গায় সরে যেতে বলেছে। রাজধানী কলম্বোও বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।

শুক্রবার মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের কিছু এলাকায় ২০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যায় গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো বন্ধ, অনেক এলাকায় ট্রেন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় এ–লেভেল পরীক্ষাও স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে।

দেশটিতে বর্ষাকাল চললেও এমন ভয়াবহ আবহাওয়া শ্রীলঙ্কায় খুবই বিরল।

২০০৩ সালে সবচেয়ে বড় বন্যায় ২৫৪ জনের মৃত্যু ও কয়েক লাখ মানুষের ঘরবাড়ি ভেসে গিয়েছিল।