প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, খুলনা অঞ্চলের বন্ধ হয়ে যাওয়া মিল-কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা হবে। পাশাপাশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনে উৎসাহিত করবে সরকার, যাতে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবি বিবেচনায় ইতোমধ্যে একটি নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং বোর্ড কাজ শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কের কাটাখালী মোড়ে আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্যকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। একদিনের সরকারি সফরে তিনি ওই অঞ্চলে যান।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি ও একটি মহল সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবিকে সামনে রেখে শিল্পকারখানায় বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিভিন্ন শিল্পকারখানা, যন্ত্রপাতি ও যানবাহনে ভাঙচুরের ঘটনার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, প্রকৃত শ্রমিকেরা কখনো নিজেদের কর্মসংস্থানের উৎস ধ্বংস করতে পারেন না।
তিনি বলেন, শিল্পকারখানা দেশের পাশাপাশি শ্রমিকদেরও সম্পদ। এসব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন শ্রমিকেরা, তাঁদের পরিবার ও সন্তানেরা।
প্রধানমন্ত্রী আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত ব্যক্তিরা সীমান্তের ওপার থেকে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে।
তিনি দেশের সাধারণ মানুষ ও শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে ষড়যন্ত্রকারীদের উপযুক্ত জবাব দেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুলনা, বাগেরহাট ও চুয়াডাঙ্গা থেকে শুরু করে উত্তরাঞ্চলের পঞ্চগড় পর্যন্ত ব্যাপক শিল্পায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, একসময় শিল্পসমৃদ্ধ খুলনা অঞ্চলসহ দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
পূর্বের পোস্ট :