যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ইরানকে ঘিরে সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে নতুন করে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানে আর ব্যাপক প্রাণহানি চান না। তবে পরিস্থিতির প্রয়োজনে কঠোর সামরিক ব্যবস্থা নিতে পিছপা হবে না ওয়াশিংটন।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরানে বহু মানুষকে হত্যা করার কোনো ইচ্ছা তার নেই। কিন্তু প্রয়োজন দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্রকে সেই পথেও যেতে হতে পারে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে পর্যবেক্ষণের পর ইরানের একটি নতুন বিমান প্রতিরক্ষা স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। স্থাপনাটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরপরই সেখানে আঘাত হানা হয় বলে দাবি করেন তিনি। তবে হামলাটিকে বড় ধরনের সামরিক অভিযান নয়, বরং ছোট একটি আঘাত হিসেবে বর্ণনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, এই পরিস্থিতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ কিংবা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মতো নয়। তার দাবি, ইরানের নৌ ও বিমান সক্ষমতা দুর্বল করে দেওয়ার পর দেশটির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দিতে পারে। আবার সামরিক পদক্ষেপ থেকে বিরত থেকে সম্ভাব্য হাজার হাজার মানুষের প্রাণও বাঁচাতে পারে। কোন পথে এগোনো হবে, সেটি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে।
এদিকে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ঘিরে ইরানে নতুন করে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনের আগে ইরানের কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের সীমিত সামরিক হামলার খবরও সামনে এসেছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ভবিষ্যতে আরও বড় সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এ পরিস্থিতিতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার উত্তেজনা কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।
তথ্য যাচাই: jamuna.tv +3
পূর্বের পোস্ট :