সরকারি নির্মাণকাজে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার বৃদ্ধিতে ইটের বদলে ব্লকের ব্যবহারে অগ্রাধিকার দেয়া হবে এবং আগামীতে কীভাবে ব্লকের ব্যবহার বাড়ানো যায় সেদিকে নজর দেয়া হবে বলে রোববার জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

"কৃষিজমির উর্বরতা রক্ষা, বায়ুদূষণ ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং টেকসই নির্মাণব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বাড়াতে পরিবেশ সুরক্ষা ও নির্মাণ খাতের বাস্তব প্রয়োজনের মধ্যে সমন্বয় রেখে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অংশীজনকে একযোগে কাজ করতে হবে," পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পরিবেশবান্ধব নির্মাণসামগ্রীর ব্যবহার বৃদ্ধি, সরকারি নির্মাণকাজে ব্লক ব্যবহারের অগ্রগতি পর্যালোচনা এবং ইটশিল্পের সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি নিয়ে হওয়া পৃথক দুইটি সভায় বলেন মন্ত্রী।

সভায় বিশেষ অতিথি প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পরিবেশ রক্ষা করে বিনিয়োগ বাড়ানোর পক্ষে। তাই ইট ভাটার মালিকদের দ্রুততম সময়ে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি করতে হবে। 

প্রথম সভায় সরকারি নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কারকাজে পরিবেশবান্ধব ব্লকের ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং এর অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। এতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ, সরকারি প্রকৌশল দপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কংক্রিট ব্লক প্রস্তুতকারক মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

পরিবেশবান্ধব ব্লকের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়াতে কাঁচামাল আমদানির শুল্ক ও কর যৌক্তিকীকরণ, উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট কমানো, কাঁচামাল কেনায় পরিশোধিত ভ্যাটের রেয়াত এবং শিল্পবর্জ্য ও নির্মাণবর্জ্য পুনর্ব্যবহারে প্রণোদনা দেওয়ার প্রস্তাব পর্যালোচনা করা হয়। এসব বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সঙ্গে আলোচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় ব্লকের মান নিশ্চিত করতে হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের পাশাপাশি গণপূর্ত অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সরকারি প্রকৌশল দপ্তরকে মান নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা এবং প্রকৌশলী, টেকনিশিয়ান ও রাজমিস্ত্রিদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।

দিনের দ্বিতীয় সভায় ইটশিল্প-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাংলাদেশ ব্রিকস ম্যানুফ্যাকচারিং ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এবং বাংলাদেশ অটো ব্রিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। সভায় ইটশিল্পের বিদ্যমান সমস্যা, পরিবেশগত মান ও আইন পরিপালন, কাঁচামাল ও জ্বালানি ব্যবহার এবং অধিকতর পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থায় রূপান্তরের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়।

সভায় প্রচলিত ইটভাটার পরিবেশগত প্রভাব কমানো, অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ইট উৎপাদনে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং দূষণ নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অটোমেটিক ইট ও পরিবেশবান্ধব ব্লক উৎপাদনের প্রসারে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। ইটশিল্পের প্রতিনিধিরা খাতটির সমস্যা, সম্ভাবনা ও প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার বিষয়ে তাঁদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।