জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম শুক্রবার জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে এনসিপি যোগ দিলেও শুরু থেকে যেসব সংস্কারের কথা বলে এসেছি দলটি সেই এখনো সেই অবস্থানেই আছে।

“১১ দলীয় জোট একটি নির্বাচনী জোট; আমরা আমাদের আগের আদর্শেই আছি। নূন্যতম রাজনৈতিক ঐক্য নিয়ে এই জোট গঠন হয়েছে। পুরনো দলের সঙ্গে জোট গঠন করে আমরা নতুন বন্দোবস্তের ধারণা থেকে সরে আসেনি,” গুলশানে নাগরিক পার্টির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বলেন নাহিদ।

নাহিদ জানান, ফ্যাসিবাদ বিরোধী ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার যে প্রতিশ্রুতি এনসিপি দিয়ে আসছে তাদের নির্বাচনী ইশতেহার তারই প্রতিফলন। জোটবদ্ধ হয়েও আলাদা ইশতেহার দিয়ে এনসিপি প্রমাণ করেছে নির্বাচনে একজোট হলেও তাদের আলাদা আলাদা ভাবনা রয়েছে।

৫ আগস্ট শহীদ মিনারের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ও ৫০ বছরের বৈষম্যের বিরুদ্ধে যে গণঅভ্যুত্থান হয়েছে এবং যেই গণঅভ্যুত্থান থেকে এনসিপির জন্ম হয়েছে এনসিপি সেই প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাপত্র থেকে সরে আসেনি। “আমরা জোট করার ফলে এই প্রশ্নটা অনেকবার এসেছে। পক্ষে বিপক্ষে সমালোচনা হয়েছে। আলোচনা হয়েছে। আমরা আমাদের যে নতুন বন্দোবস্তের যে লড়াই বা যে দাবি নিয়ে আমরা শুরু করেছিলাম, আমরা এখনো সেই দাবিতেই আছি।”

নির্বাচিত হলে জোটে থেকেই এনসিপি তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করবে উল্লেখ করে নাহিদ বলেন, “আমাদের চেষ্টা থাকবে এই জোটের মধ্য দিয়ে আমাদের সংস্কারের দাবি বাস্তবায়ন করবো। আমাদের প্রায়োরিটি আমরা বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। এ কারণে আমরা এনসিপির পক্ষ থেকে একটা আলাদা ইশতেহার দিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী তাদের একটা ইশতেহার দিয়েছে।”

অনেক সুযোগ হাতছাড়া হয়ে গেলেও গণভোটের মাধ্যমে এখনো অনেক সংস্কার সম্ভব বলে মনে করেন নাহিদ। সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে উদ্ভুদ্ধ করেন তিনি। “আমরা অনেক সুযোগ মিস করেছি, কিন্তু এই সময় আমাদের অনেক সম্ভাবনা এবং আমাদের অনেক কিছু অর্জন হয়েছে। ফলে সংস্কারের অনেকগুলো প্রতিশ্রুতি আমরা পেয়েছি, যেটা নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এর মাধ্যমে আমরা নতুন বন্দোবস্তে সেই লড়াইয়ের দিকে যাবো।”

নতুন বন্দোবস্তের যে আকাঙ্ক্ষাটা সেই সেটা এনসিপি এখন একটা দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে দেখে, দীর্ঘমেয়াদি যাত্রার মধ্যে অর্জন করতে হবে বলে উল্লেখ করেন নাহিদ।