আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি)। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনের আগে আজ বিকেল ৫টার মধ্যে প্রার্থীরা তাদের মনোনয়ন প্রত্যাহার করতে পারবেন।

যেসব রাজনৈতিক দল কোনো আসনে একাধিক প্রার্থী দিয়েছে, তাদের অবশ্যই আজ বিকেল ৫টার মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাকে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম লিখিতভাবে জানাতে হবে। একই সময়ের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত অন্যান্য প্রার্থীরাও প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন।

প্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ১৬(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বৈধভাবে মনোনীত কোনো প্রার্থী লিখিত নোটিশের মাধ্যমে—নিজে বা তার লিখিতভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত এজেন্টের মাধ্যমে—প্রত্যাহার দিবসের মধ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন।

আরপিও’র ১৬(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল যদি একই আসনে একাধিক প্রার্থী মনোনয়ন দেয়, তবে দলের চেয়ারম্যান, সেক্রেটারি বা সমমর্যাদার কোনো ব্যক্তি লিখিত নোটিশের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে দলের চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম জানাবেন। এ ক্ষেত্রে ওই দলের অন্য প্রার্থী প্রার্থিতা হারাবেন।

গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। একই সঙ্গে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ’ নিয়ে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তও জানানো হয়।

নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের পর আগামী ২১ জানুয়ারি রিটার্নিং কর্মকর্তারা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করবেন এবং নির্বাচনী প্রতীক বরাদ্দ দেবেন। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি থেকে, যা চলবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, সকাল ৭টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, গত ২৯ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের ৩০০ আসনে মোট দুই হাজার ৫৬০ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। যাচাই-বাছাই শেষে রিটার্নিং কর্মকর্তারা এক হাজার ৮৪২টি মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন এবং ৭২৩টি বাতিল করেন।

এরপর প্রার্থিতা বাতিল বা গ্রহণ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রার্থী ও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান—যার মধ্যে বিভিন্ন ব্যাংকও রয়েছে—মোট ৬৪৫টি আপিল নির্বাচন কমিশনে দায়ের করে। এসব আপিলে ৬০০-এর বেশি প্রার্থীর বিষয় উঠে আসে।

গত ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা নয় দিনের শুনানি শেষে প্রায় ৪২০ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পান। সব মিলিয়ে বর্তমানে বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় দুই হাজার ২৫০ জনে।