সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী ভোট বন্ধ করে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। অনিয়মসহ নানা কারণে নির্বাচন পরিচালনা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার ভোট বন্ধের ক্ষমতাও রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সার্বিক বিষয় তুলে ধরে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের করণীয় নির্ধারণ করে ইতোমধ্যে পরিপত্র জারি করেছে কমিশন।
পরিপত্র অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে ভোটগ্রহণ চলবে। সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি সেদিন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন প্রশ্নে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে।
রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে ভোটগ্রহণের সময়সংক্রান্ত গণবিজ্ঞপ্তি, ভোট বন্ধ ঘোষণা, পুনরায় ভোটগ্রহণ, পুনর্নির্বাচন, প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত ব্যানার প্রদর্শন, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার এবং ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনে ফল পাঠানোর বিধান তুলে ধরা হয়েছে।
এবার প্রায় ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে প্রায় আড়াই লাখ ভোটকক্ষ থাকবে। ভোটার সংখ্যা প্রায় পৌনে ১৩ কোটি।
ভোট বাধাগ্রস্ত হলে কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা, পুনরায় ভোটের সিদ্ধান্ত এবং প্রয়োজন হলে পুরো নির্বাচনি কার্যক্রম স্থগিত করার ক্ষমতা কার হাতে থাকবে— সে বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনাও দিয়েছে কমিশন।
ভোট বন্ধ করা যাবে যেসব পরিস্থিতিতে
ভোটে বাধা, কেন্দ্র দখল, ব্যালট বাক্স নষ্ট বা ছিনতাইসহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে ভোটকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা যাবে। এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের শাস্তির বিধানও রয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী—
প্রিজাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত কারণে ভোটগ্রহণ ব্যাহত হলে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুনরায় শুরু করা সম্ভব না হলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভোট বন্ধ করবেন এবং রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করবেন।
ব্যালট বাক্স অপসারণ, ক্ষতিগ্রস্ত, নষ্ট বা হারিয়ে গেলে এবং ফল নির্ধারণ সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না।
পুনরায় ভোটগ্রহণ
বন্ধ ঘোষিত কেন্দ্রের ফল বাদ দিয়ে পুরো নির্বাচনি এলাকার ফল নির্ধারণ সম্ভব না হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে নতুন করে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেবেন। ওই কেন্দ্রের সব ভোটার পুনরায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। কমিশনের অনুমোদন নিয়ে রিটার্নিং অফিসার নতুন ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে গণবিজ্ঞপ্তি দেবেন।
ভোটে অপকর্ম, বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন, চাপ সৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব হলে কমিশন যেকোনো পর্যায়ে কেন্দ্র বা পুরো নির্বাচনি এলাকার ভোটগ্রহণসহ নির্বাচনি কার্যক্রম বন্ধ করতে পারবে।
ডাকযোগে ভোট ও ফল পাঠানো
এবার প্রবাসী ও নির্ধারিত শ্রেণির ভোটাররা আইটি-সমর্থিত পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ডাকযোগে (ওসিভি ও আইসিভি) ভোট দিতে পারবেন।
ভোটগ্রহণ শেষে প্রিজাইডিং অফিসার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগণনার বিবরণীর এক কপি সরাসরি ডাকযোগে নির্বাচন কমিশনে পাঠাবেন। এজন্য প্রতিটি কেন্দ্রে বিশেষ খাম সরবরাহ করা হবে এবং খাম পৌঁছাতে পোস্ট অফিস ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার নির্দেশনা রয়েছে।
ব্যানার ও ভোটকেন্দ্রে প্রবেশাধিকার
প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রার্থীদের নাম ও প্রতীক সম্বলিত পরিবেশবান্ধব ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে ইসি। পাশাপাশি কারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন— সে বিষয়ে ফেস্টুন টানানোর কথা বলা হয়েছে, যাতে অবাঞ্ছিত কেউ কেন্দ্রে ঢুকতে না পারে।
গণভোট সংক্রান্ত ব্যানারেও জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ এবং সংশ্লিষ্ট লিখিত প্রস্তাব স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
ভিজিল্যান্স, অবজারভেশন ও মনিটরিং টিম
ভোটের আগের অনিয়ম রোধে জেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম গঠনের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এসব টিম নির্বাচনি প্রচারণা, ব্যয় ও আচরণবিধি প্রতিপালন সরেজমিনে তদারকি করবে।
এছাড়া সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নির্বাচন মনিটরিং টিম গঠন করা হবে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে রিটার্নিং অফিসারের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেলও গঠনের নির্দেশনা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
পূর্বের পোস্ট :