চলতি বছরে দেশের বাজারে এলপিজির দামে বেশ কয়েক দফা ওঠানামা দেখা গেছে। জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম পাঁচ দফা বাড়ানো এবং চার দফা কমানো হয়েছে। এ সময়ে সর্বনিম্ন দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা, আর সর্বোচ্চ উঠেছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা।
বছরের শুরুতে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৩০৬ টাকা। ফেব্রুয়ারিতে ৫০ টাকা বেড়ে তা দাঁড়ায় ১ হাজার ৩৫৬ টাকায়। মার্চে ১৫ টাকা কমে দাম হয় ১ হাজার ৩৪১ টাকা।
এরপর এপ্রিল থেকে দাম বাড়ার প্রবণতা তীব্র হয়। ওই মাসে একবারে ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নির্ধারণ করা হয় ১ হাজার ৭২৮ টাকা। মে মাসে আরও ২১২ টাকা বাড়ানো হলে দাম সর্বোচ্চ ১ হাজার ৯৪০ টাকায় পৌঁছে।
তবে জুন ও জুলাইয়ে পরিস্থিতি কিছুটা বদলায়। জুনে ৫৫ টাকা কমে দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৮৮৫ টাকা। জুলাইয়ে আরও বড় পতন হয়ে ৩৫৭ টাকা কমানো হয়। ফলে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম নেমে আসে ১ হাজার ৫২৮ টাকায়।
এরপর আবার বাড়তে শুরু করে এলপিজির দাম। আগস্টে ৭০ টাকা বেড়ে ১ হাজার ৫৯৮ টাকা এবং সেপ্টেম্বরে ১৩ টাকা কমে ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
অক্টোবরে এসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম এক লাফে ২৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা। ফলে এক মাসে দাম বেড়েছে প্রায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ।
হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ের ১ হাজার ৫২৮ টাকা থেকে অক্টোবরের ১ হাজার ৮৩৭ টাকায় দাম বেড়েছে ৩০৯ টাকা। অন্যদিকে জানুয়ারির তুলনায় বর্তমান দাম ৫৩১ টাকা বেশি, যা প্রায় ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ বৃদ্ধি।
এলপিজির দামের এই ওঠানামার পাশাপাশি খুচরা বাজারেও ভোক্তাদের বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকশ টাকা বেশি নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ফলে নতুন করে দাম বাড়ায় এলপিজিনির্ভর পরিবারগুলোর রান্নার খরচ আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদারের কথা জানানো হয়েছে। আমদানিকারকদের বিক্রির তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং নতুন দাম কার্যকরের পর বাজারে নজরদারি আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :