জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব কাঁচাবাজারে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পরিবহন ব্যয় বাড়ার অজুহাতে সবজির দাম কমছে না, বরং উচ্চ দরে স্থির রয়েছে। এরই মধ্যে ডিমের দাম বাড়ার পর এবার গরুর মাংসের দামও বেড়েছে।
শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি গরুর মাংস ২০ টাকা বেড়ে ৮২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। শনির আখড়া, যাত্রাবাড়ী ও মহাখালী বাজারে একই চিত্র দেখা গেছে।
বিক্রেতারা জানান, গরু কেনার দাম বেড়ে যাওয়ায় মাংসের দাম বাড়াতে হয়েছে। শনির আখড়ার বিক্রেতা জাবেদুল ইসলাম বলেন, “একটা গরু আগের চেয়ে ৪-৫ হাজার টাকা বেশি দিয়ে আনতে হচ্ছে, তাই দাম বাড়াতে হয়েছে।”
অন্যদিকে ছাগলের মাংস ১ হাজার ১০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের মতোই রয়েছে।
সবজির বাজারে ঊর্ধ্বগতি অব্যাহত
জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর পরিবহন খরচ বেড়েছে—এ কারণ দেখিয়ে সবজির দাম কমছে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। শনির আখড়া বাজারের বিক্রেতা আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ট্রাক ভাড়া বেড়ে গেছে, তাই পাইকারি দামও বেশি।”
সবজির মধ্যে সবচেয়ে সস্তা হিসেবে ধরা পেঁপেও এখন ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীতে ঝিঙা ও ধুন্দল ৮০ টাকা, লম্বা বেগুন ১০০ টাকা এবং গোল বেগুন ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
ঢেঁড়স বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকা কেজিতে। টমেটো ৫০-৬০ টাকা এবং করলা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে।
পটল, শসা ও বরবটি ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচ ৬০-৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে, যা সামান্য কমেছে।
ডিম ও মুরগির দামও চড়া
ডিমের দাম আগের সপ্তাহের মতোই বাড়তি রয়েছে। প্রতি ডজন খামারের ডিম ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
যাত্রাবাড়ী বাজারে ব্রয়লার মুরগি ১০ টাকা বেড়ে ১৯০ টাকা কেজি হয়েছে। তবে সোনালি জাতের মুরগির দাম কিছুটা কমে ৩৫০ টাকায় নেমেছে।
মাছের বাজারেও বাড়তি দর
মাছের বাজারেও উচ্চ দাম অব্যাহত রয়েছে। ছোট রুই মাছ যাত্রাবাড়ীতে ২০০ টাকা হলেও মহাখালীতে তা ৩৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
শিং মাছ ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা, কই মাছ ৩২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বড় রুই মাছের দাম কমে কিছুটা স্বস্তি এলেও অন্যান্য মাছের দামে তেমন পরিবর্তন নেই।
তেলাপিয়া ১২০ টাকা, পাঙ্গাস ২২০ টাকা, সরপুটি ২৫০ টাকা এবং সিলভার কার্প ২২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। দেশি পাবদা ৬০০ টাকা এবং চাষের পাবদা ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব সরবরাহ ব্যবস্থায় পড়ায় কাঁচাবাজারে স্থিতিশীলতা ফিরতে সময় লাগতে পারে।
পূর্বের পোস্ট :