নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স।
এসব উড়োজাহাজ কিনতে ব্যয় হবে ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৭৩ পয়সা ধরে)। বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকার একটি হোটেলে চুক্তি সই হয় বলে বিমানের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে ১০টি প্রশস্ত দেহবিশিষ্ট ড্রিমলাইনার এবং ৪টি সরু দেহবিশিষ্ট ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজ রয়েছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিমানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, জ্বালানি সাশ্রয়ী ও প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এসব নতুন উড়োজাহাজ বিমানের বহর আধুনিকীকরণ, পরিচালন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে সহায়ক হবে। এর মাধ্যমে বৈশ্বিক উড়োজাহাজ পরিবহন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে গত জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মাহবুবুর রহমান বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনার কথা জানান। তবে সে সময় বিমানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কিছু জানা নেই বলে গণমাধ্যমকে জানানো হয়েছিল। পরে গত ৩০ ডিসেম্বর বিমানের পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এর আগে, বিগত সরকারের সময় ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা সফরে এসে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁ তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই ক্রয়-প্রতিশ্রুতির কথা উল্লেখ করেন।
তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিস্থিতির প্রভাবে শেষ পর্যন্ত ক্রয়াদেশ যায় বোয়িংয়ের কাছে। ২০২৪ সালের অগাস্টে গণঅভ্যুত্থানে সরকার পরিবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ৩৫ শতাংশ শুল্কের প্রভাবও এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর, বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেইন, যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন এবং বোয়িংয়ের বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘি উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বের পোস্ট :