নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের স্থায়ী ভেন্যু চায়না–বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (সিবিসিএফইসি) শনিবার ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩০তম আসর দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের ইতিহাসে একটি মাইলফলক। বাণিজ্য মেলা কেবল পণ্যের প্রদর্শনী নয়; এটি বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক অগ্রগতির প্রতিফলন।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বিশ্ব বাণিজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। রপ্তানি পণ্যের উন্নয়ন ও বহুমুখীকরণ, নতুন আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ, বাজার সংযোগ জোরদার, অর্থনৈতিক কূটনীতি ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ, দেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা আয়োজনের মূল লক্ষ্য। এ ধরনের আয়োজন দেশের ব্র্যান্ড ইমেজ শক্তিশালী করে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের প্রতি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যা উৎপাদককে ভোক্তার সঙ্গে, উদ্যোক্তাকে বিনিয়োগকারীর সঙ্গে এবং বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘এই মেলা বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে আমাদের অগ্রগতির প্রতিফলন ঘটায়। পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্প থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উৎপাদন ও বহুমুখীকরণে বাংলাদেশের সক্ষমতাও তুলে ধরে।’
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন-পরবর্তী সময়ে দেশের রপ্তানি বাণিজ্যের গতি বজায় রাখতে পণ্য উন্নয়ন, বৈচিত্র্যকরণ ও নতুন বাজার অন্বেষণের অংশ হিসেবে একই ভেন্যুতে গত ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর প্রথমবারের মতো ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো ২০২৫ ঢাকা’ শীর্ষক একটি আন্তর্জাতিক সোর্সিং ফেয়ারের আয়োজন করা হয় বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থী, পর্যটক ও আমদানিকারকদের কাছে বাংলাদেশের উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতা আরও পরিচিত হয়েছে। ভবিষ্যতে বছরে এক বা একাধিকবার এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
বাণিজ্য মেলায় উদ্যোক্তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, উদ্যোক্তারা তাদের পণ্য ও সেবার গুণগত মান, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা তুলে ধরার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করেন। একই সঙ্গে ক্রেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বাজার চাহিদা বিশ্লেষণ, দরকষাকষি ও অর্ডার গ্রহণের মাধ্যমে বাস্তব বাণিজ্যিক সুফল অর্জন করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, এই মেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে উদ্যোক্তারা নতুন বাজার সম্পর্কে ধারণা পাবেন, আন্তর্জাতিক মান ও প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং পণ্য উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উদ্যোক্তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ মেলাকে সফল করবে এবং দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
দেশের রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে জানিয়ে উপদেষ্টা বলেন, রপ্তানিতে অবদান ও সম্ভাবনা বিবেচনায় বিভিন্ন পণ্য খাতকে ‘সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাত’ ও ‘বিশেষ অগ্রাধিকার খাত’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
রপ্তানি প্রসার ও প্রণোদনামূলক কর্মকাণ্ড জোরদারে প্রতি বছর একটি পণ্যকে ‘বর্ষপণ্য’ বা ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ হিসেবে ঘোষণা করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘২০২৬ সালের বর্ষপণ্য হিসেবে “পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস” ঘোষণা করা হলো।’
এর আগে ১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারিত থাকলেও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। সে কারণে মেলার উদ্বোধন ১ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়।
এবারের মেলায় পলিথিন ব্যাগ ও সিঙ্গেল-ইউজ প্লাস্টিক ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এর পরিবর্তে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব শপিং ব্যাগ হ্রাসকৃত মূল্যে সরবরাহ করা হবে।
মেলার লে-আউট পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় উৎপাদক ও রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মোট ৩২৪টি প্যাভিলিয়ন, স্টল ও রেস্তোরাঁ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :