বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নানা প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রধান অন্তরায় খোদ জ্বালানি খাতে কর্মরত সরকারি কর্মকর্তা ও এ খাতের ব্যবসায়ীরা—এমন মন্তব্য করেছেন জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান।
তিনি বলেন, “আমরা একটা ট্রানজিশন চাই; জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে এগোতে চাই। কিন্তু এ ক্ষেত্রে বড় বাধা এ খাতেরই কিছু কর্মকর্তা ও জীবাশ্ম জ্বালানি–নির্ভর ব্যবসায়ীরা।”
সোমবার বিকেলে “বাংলাদেশ জ্বালানি কনফারেন্স ২০২৫”-এর সমাপনী দিনে তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের ইচ্ছা থাকলেও জীবাশ্ম জ্বালানির প্রতি অতিনির্ভরতার কারণে এখনো শতভাগ রূপান্তর সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, “যদি বিকল্প উপায় থাকত, তাহলে এলএনজি আমদানি বন্ধ করে দিতাম। সুযোগ থাকলে দেশের সব কয়টি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও বন্ধ করে দিতাম। কিন্তু নবায়নযোগ্য উৎস থেকে যে বিদ্যুৎ আসে, তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে দিলে দেশ এক দিনের মধ্যে অন্ধকারে ডুবে যাবে।”
এক দিনের সিদ্ধান্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তর সম্ভব নয় উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, স্বচ্ছতা বজায় রেখে ধীরে ধীরে এ উৎসকে সমৃদ্ধ করতে হবে।
উপদেষ্টা জানান, জ্বালানি খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে। প্রতিযোগিতার মাধ্যমে খাতকে লাভজনক করতে এবং জ্বালানি সিন্ডিকেটের একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে দিতে আগের অনেক টেন্ডার বাতিল করে বহু প্রকল্পে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “একদল কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীর যোগসাজশে বড় অঙ্কের লেনদেনের বিনিময়ে এ খাতে দুর্নীতি চলে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির রুফটপ প্রকল্প আলোর মুখ না দেখার অন্যতম কারণ এসব কর্মকর্তার দুর্নীতি।”
উপদেষ্টা জানান, জ্বালানি খাতে লুকোচুরির সুযোগ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দরপত্র থেকে শুরু করে প্রকল্প বাস্তবায়নের নানা ধাপে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে অনেক কিছুই উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া স্বার্থন্বেষী ব্যবসায়ীরা যেন আবারও এ খাতে একচ্ছত্র আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে না পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকার সচেষ্ট রয়েছে বলেও জানান তিনি।
পূর্বের পোস্ট :