লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি সাময়িকভাবে খুলে দিয়েছে ইরান। এতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার আশা দেখা দিলেও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ অব্যাহত থাকলে আবারও প্রণালিটি বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক ঘোষণায় ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, লেবাননের যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সব বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল উন্মুক্ত রাখা হবে।

ইরান ও ওমানের মাঝের এই সরু প্রণালিটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ। বৈশ্বিক তেল ও গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় ইরান প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলে কার্যত বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, যা শুক্রবার থেকে কার্যকর হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খোমেইনি নিহত হওয়ার পর লেবাননের ইরান-সমর্থিত সংগঠন হিজবুল্লাহ যুদ্ধে যুক্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই পদক্ষেপকে ‘বিশ্বের জন্য ইতিবাচক’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত দেশটির বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ বহাল থাকবে।

এ অবস্থায় ইরানও পাল্টা সতর্কতা দিয়েছে। দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ বলেছেন, অবরোধ চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালিও খোলা থাকবে না।

রয়টার্স জানিয়েছে, শুক্রবার কয়েকটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। ঠিক কী কারণে তারা ফিরে গেছে, তা স্পষ্ট নয়।

ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে হলে জাহাজগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সামরিক জাহাজের চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

এদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়েও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরিয়ে নেবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি বলেছেন, দেশের পরিশোধিত ইউরেনিয়াম কোথাও হস্তান্তর করা হবে না।