নেপালে ছয় মাস আগে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী অভিযান পরিচালনার অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককেও শনিবার আটক করা হয়।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে ৭০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন, যাদের মধ্যে পুলিশের গুলিতে বহু বিক্ষোভকারী প্রাণ হারান। শুরুতে সোশাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ থেকে আন্দোলনের সূত্রপাত হলেও পরে তা দুর্নীতি, বেকারত্ব এবং দুর্বল অর্থনীতির বিরুদ্ধে জনরোষে রূপ নেয়।

তদন্তে গঠিত প্যানেলের সুপারিশের ভিত্তিতে ওলি ও লেখকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবহেলার অভিযোগ আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যদিও এখনো তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়নি।

এদিকে, অভ্যুত্থান-পরবর্তী নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসা র‌্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ হওয়া বালেন শাহ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পরদিনই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।

কাঠমান্ডু পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওলি এটিকে “চরিত্রহনন ও ঘৃণার রাজনীতি” বলে মন্তব্য করেছিলেন। তবে নতুন সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুঙ্গ বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়—এটি প্রতিশোধ নয়, ন্যায়বিচারের সূচনা।”

উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বরের তথাকথিত ‘জেন-জি’ বিক্ষোভে অন্তত ১৯ জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন স্কুলপড়ুয়াও ছিল। পরবর্তী সহিংসতায় পার্লামেন্ট, পুলিশ স্টেশন ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

নিহত ৭৬ জনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দায়ীদের বিচার দাবি করে আসছিলেন। এই প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক গ্রেপ্তারকে ন্যায়বিচারের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।