ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র খার্ক দ্বীপে আরও হামলার হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি নিরাপদ রাখতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। আর খার্ক দ্বীপে মার্কিন হামলার পর এর জবাব দেওয়ার প্রত্যয় জানিয়েছে ইরান।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধ রোববার ১৬তম দিনে প্রবেশ করেছে। তবে এখনো সংঘাত থামার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খার্ক দ্বীপের অধিকাংশ অংশ ‘পুরোপুরি ধ্বংস’ হয়ে গেছে এবং আরও হামলা হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “শুধু মজা করার জন্য আমরা আরও কয়েকবার হামলা চালাতে পারি।”
তিনি বলেন, এই সংঘাত শেষ করতে একটি চুক্তিতে উপনীত হওয়ার জন্য তেহরান প্রস্তুত বলে মনে হলেও, “শর্তগুলো এখনও যথেষ্ট ভালো নয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, এসব মন্তব্যে ট্রাম্পের বক্তব্যের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এর আগে তিনি বলেছিলেন, খার্ক দ্বীপে মার্কিন বাহিনী শুধু সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে। নতুন এই বক্তব্য কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকেও দূরে ঠেলে দিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিস্থিতির বিষয়ে অবগত তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশ যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে আলোচনা শুরু করার চেষ্টা করলেও ট্রাম্প প্রশাসন তা ইতোমধ্যে প্রত্যাখ্যান করেছে।
এদিকে ইরানের হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য বড় উদ্বেগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই জলপথটি বিশ্বব্যাপী তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে প্রণালিটি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক তেল সরবরাহ বড় ধরনের বিঘ্নের মুখে পড়েছে এবং জ্বালানির দাম বাড়ছে।
শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, “বিশ্বের যেসব দেশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে তেল পায়, তাদের অবশ্যই এই পথটির যত্ন নিতে হবে। আমরা তাদের অনেক সাহায্য করব। সবকিছু যেন দ্রুত, মসৃণ ও ভালোভাবে চলে, সে জন্য যুক্তরাষ্ট্র ওই দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করবে।”
যুদ্ধ তৃতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে উভয় পক্ষই দীর্ঘ লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিমান হামলা বন্ধ না করা পর্যন্ত তারা কোনো যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বিবেচনা করবে না।
এরই মধ্যে ইরানি বাহিনী মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্বার্থে এবং ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রেখেছে। শনিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি স্থাপনায় ড্রোন হামলা হয়েছে, এতে সেখানে কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটেছে।
একই দিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের নাগরিকদের ইরাক ছাড়ার জন্য সতর্ক করেছে। শুক্রবার রাতে বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর এ সতর্কতা জারি করা হয়।
অন্যদিকে ইরান সংযুক্ত আরব আমিরাতের বেসামরিক নাগরিকদের বন্দর, ডকইয়ার্ড এবং ‘আমেরিকানদের আস্তানাগুলো’ থেকে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করেছে। তাদের অভিযোগ, এসব এলাকা থেকে মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর হামলা চালাচ্ছে। তবে শুক্রবার রাতে খার্ক দ্বীপে হামলা তাদের ভূখণ্ড থেকে চালানো হয়েছে—এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আছে এমন সব স্থাপনাকে ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তু’ ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে থাকা সব মার্কিন শিল্পকারখানাকে অঞ্চলটি ছেড়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা।
পূর্বের পোস্ট :