ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ২,৫৭১ জনে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ । বুধবার সংস্থাটি এই তথ্য প্রকাশ করে। দেশটির ইসলামিক শাসকগোষ্ঠী গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় গণঅসন্তোষের মুখে পড়েছে।

এইচআরএএনএ জানায়, এখন পর্যন্ত তারা ২,৪০৩ জন বিক্ষোভকারী, সরকারপন্থী ১৪৭ জন ব্যক্তি, ১৮ বছরের কম বয়সী ১২ জন এবং নয়জন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুর তথ্য যাচাই করেছে, যারা সরাসরি বিক্ষোভে অংশ নেননি।

এর আগে মঙ্গলবার একজন ইরানি কর্মকর্তা স্বীকার করেন, দেশজুড়ে প্রায় ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। চলমান বিক্ষোভ শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো ইরানি কর্তৃপক্ষ সামগ্রিক মৃত্যুর সংখ্যা প্রকাশ করল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইরানের জনগণকে বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহায়তা আসছে।” তবে তিনি কী ধরনের সহায়তার কথা বলেছেন—এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে সাংবাদিকদের বলেন, “ওটা আপনাদেরই বুঝে নিতে হবে।” 

ট্রাম্প আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, বিক্ষোভ দমনে কঠোর পদক্ষেপের জন্য ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।

অন্যদিকে ইরানের কর্মকর্তারা দাবি করছেন, দেশের ভেতরে চলমান সহিংসতার পেছনে রয়েছে বিদেশি মদদ। তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করে বলছেন, বিদেশি নির্দেশনায় পরিচালিত “সন্ত্রাসী চক্র” পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করছে এবং মৃত্যুর জন্য তারাই দায়ী।

প্রচণ্ড অর্থনৈতিক সংকট ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি থেকে এই বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তত গত তিন বছরে এটি ইরানের শাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

দেশজুড়ে টানা অস্থিরতার মধ্যেই ইরানের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে।