আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্তে অনুপ্রবেশ ও সহিংসতা ঠেকাতে লালমনিরহাট জেলার সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

বিজিবি জানিয়েছে, নির্বাচনকে সামনে রেখে সীমান্ত এলাকায় যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও মাদক পাচার রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। 

একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে জনসচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি) থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় বিশেষ টহল, কঠোর নজরদারি এবং গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

পাশাপাশি সীমান্তের অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন অসাধু চক্র, সন্ত্রাসী ও মাদক চোরাকারবারিরা যাতে সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে মাদক পাচার বা অবৈধ অনুপ্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।

রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সীমান্ত এলাকাসহ সব গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত টহল, বিশেষ টহল এবং একাধিক বিওপির সমন্বয়ে যৌথ টহল বা ‘হুলিয়া টহল’ পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিজিবির অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় চলাচলকারী সব যানবাহন তল্লাশি করছেন বিজিবি সদস্যরা।

এসব নিরাপত্তা কার্যক্রমের পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় অধীনস্থ বিওপিগুলোর উদ্যোগে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে জনসচেতনতামূলক সভা করা হচ্ছে। 

এসব সভায় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষকে নির্বাচন সামনে রেখে যেকোনো ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তথ্য দিয়ে বিজিবিকে সহায়তা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে। 

একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সীমান্তজুড়ে বিজিবি টহল জোরদার করেছে এবং বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে।

রংপুর ব্যাটালিয়ন (৫১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল সেলিম আল দীন বলেন, অবৈধ অনুপ্রবেশ ও মাদক পাচার রোধে বিজিবি সব সময় সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে।

তিনি বলেন, “স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও জোরদার করা হয়েছে।”