জাতীয় নির্বাচনে দুর্নীতিবাজ প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করতে দেশের ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মোমেন।
তিনি বলেন, জনগণ সচেতন হলে ও দুর্নীতিবাজদের ভোট না দিলে দেশের দুর্নীতির সংস্কৃতি অনেকটাই কমে আসবে।
রবিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক সদর দফতরে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, “যদি ভোটাররা দুর্নীতিগ্রস্ত ও চাঁদাবাজ প্রার্থীদের প্রত্যাখ্যান করেন, তবে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তখন দুদকেরও প্রয়োজন হবে না।”
জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড়িয়ে কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এ বছর ২৩তম আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবসের প্রতিপাদ্য— ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ বিশ্ব’। দেশের অন্যান্য স্থানের মতো রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে দিবসটি পালন করছে দুদক।
দুদক চেয়ারম্যান বলেন, “দুর্নীতিবাজদের কাছে প্রতিটি দিনই উৎসব। কিন্তু যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করেন, তাদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি দিন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন।”
তিনি তরুণদের দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে দুদক কমিশনার মিয়া মোহাম্মদ আলী আকবর আজিজি এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধন শেষে দুর্নীতিবিরোধী জনসচেতনতা তৈরি করতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
২০০৩ সালে জাতিসংঘ ৯ ডিসেম্বরকে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস ঘোষণা করে। জাতিসংঘের দুর্নীতিবিরোধী কনভেনশন (ইউএনসিএসসি) বিশ্বের দেশগুলোকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ করার লক্ষ্যেই গৃহীত হয়।
ইউএনসিএসসিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ ২০০৭ সাল থেকে দুদকের মাধ্যমে দিবসটি পালন শুরু করে। সরকারিভাবে দিবসটি উদযাপন শুরু হয় ২০১৭ সালে।
এদিকে দিনটি উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজন করছে।
পূর্বের পোস্ট :