প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান বুধবার বলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামের সমর্থন ও সরাসরি প্রশ্রয়ে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের সেনাবাহিনী ও সরকার নিয়ে অসভ্য রকমের মন্তব্য করছেন।
“বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে এত বড় বেয়াদব আর কেউ ছিল না। নাসিরুদ্দীনের এই বেয়াদবির দায় নাহিদকেও নিতে হবে,” জাতীয় প্রেসক্লাবে এক্স-ফোর্সেস অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন রাশেদ।
সেনাবাহিনীর কাছে নাসিরুদ্দীনের ক্ষমা চাওয়া উচিত উল্লেখ করে রাশেদ বলেন, “সেনাপ্রধান দাঁড়ি রেখেছেন এ নিয়ে আজেবাজে কথা বলেছেন নাসিরুদ্দীন। বুড়ো বয়সের সেনাপ্রধানের ভীমরতি হয়েছেন এ ধরণের নিকৃষ্ট কথা বলেছেন তিনি। একটি দেশের জেনারেলকে নিয়ে এমন মন্তব্য করার ধৃষ্টতা কি করে দেখান নাসির। প্রতিনিয়ত সেনাবাহিনী নিয়ে আজেবাজে কথা বলছেন সে। তাকে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।”
সরকারের মন্ত্রীদের নিয়ে অসভ্য ভাষায় নাসিরুদ্দীন কথা বলছেন উল্লেখ করে রাশেদ জানান, “নাসিরুদ্দীন যে ভাষায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীকে সম্বোধন করছেন তা নিতান্ত আপত্তিজনক। এটা হতে পারে না। এভাবে চলতে দেয়া যায় না।”
নাহিদ ইসলাম প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, “নাহিদ এখন বড় বড় কথা বলেন। অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে সে কিছুই করতে পারেননি। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশন বাস্তবায়নে সে পরিপূর্ণ ব্যর্থ। তার পরে আরেক ছাত্রনেতা মাহফুজ দায়িত্ব নিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।”
অন্তবর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা প্রসঙ্গে রাশেদ জানান, যেসব তরুণরা উপদেষ্টা পদে বসেছিলেন এবং নিজেদের লোকদের বসিয়েছেন তারা পুরো ১৮ মাস তদবির বাণিজ্যে ডুবে ছিল। এজন্যই সরকার ব্যর্থ হয়েছে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রসঙ্গে রাশেদ বলেন, “আসিফ নিজে আমাকে ৭ আগস্ট বলেছে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস এবং দক্ষিণ অঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত গণঅভ্যুত্থানের আদর্শের সঙ্গে বেঈমানি করেছে। এজন্য সারজিস আর হাসনার দুই ও তিন নম্বর সমন্বয়ক হওয়ার পরেও উপদেষ্টা বানানো হয়েছিল চার নাম্বার সমন্বয়ক আসিফকে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম ইতিহাস বিকৃতি এনসিপি করেছে উল্লেখ করে রাশেদ জানান, কোটা সংস্কার আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই অভ্যুত্থান হয়েছে, জুলাই ঘোষণাপত্রে সেটি উল্লেখ করতে বলা হলেও এনসিপি কোটা সংস্কার আন্দোলনকে অস্বীকার করে ইতিহাস বিকৃতি করেছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে রাশেদ জানান, সরকারকে সহযোগিতার বদলে জামায়াত সরকার পতনের পায়তারা করছে। কিন্তু তাদের বোঝা উচিত সরকার পতন করতে পারলেও তারা কোনোদিন দেশ চালাতে পারবে না। তাদের নেতৃত্বে আর কোনো আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান সফল হবে না।
জামায়াত জোটের সদস্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অলি আহমদের প্রসঙ্গ তুলে রাশেদ জানান, এনসিপির ফাঁদে পরে বৃদ্ধ বয়সে তিনি ভুলভাল বকছেন। “অলি আহমেদের কথা শুনলে মনে হয় তিনি নাসিরুদ্দীনের কণ্ঠে কথা বলছেন। এনসিপির সঙ্গে গিয়ে তার এই অধঃপতন হয়েছে।”
পাহাড়ে শান্তি ফিরিয়ে আনা প্রসঙ্গে রাশেদ জানান, পাহাড়ে সেনাবাহিনীর কোনো বিকল্প নেই। সেনাবাহিনী পাহাড় থেকে সরিয়ে নিলে পাহাড় আবারও অশান্ত হয়ে উঠবে।
তিনি সবাইকে মিলে মিশে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেয়ার আহ্বান জানান, যেখানে ভিন্নমত থাকলেও বাংলাদেশ প্রসঙ্গে কোনো দ্বন্দ্ব থাকবে না।
পূর্বের পোস্ট :