বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ২০২৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার আরও তিনটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) স্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে করে দেশে জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান হয়।
”পায়রা, মোংলা ও হিরণ পয়েন্টে আরও তিনটি এফএসআরইউ স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ইনভেস্টর খোঁজার কাজও শুরু হয়েছে,” ব্র্যাক সেন্টারে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত এক সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বলেন মন্ত্রী।
ইকবাল জানান, বর্তমানে মহেশখালীর এফএসআরইউতে অগ্নিদুর্ঘটনার কারণে সারাদেশে গ্যাস সরবরাহ ব্যহত হচ্ছে। ইঞ্জিনিয়াররা প্রতিনিয়ত সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। ব্রয়লার সিংক্রোনাইজ করে কাজ চালানো হচ্ছে।
“দুর্ঘটনা আরও বড় ঘটতে পারতো। কিন্তু সেটা না হওয়ায় স্থায়ী ক্ষতি থেকে বেঁচে গেছি আমরা। এফএসআরইউ ঠিক করতে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে,” জানান মন্ত্রী।
এফএসআরইউ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এলএনজি কেনা থামানো হয়নি এবং সমস্যা সমাধানের সঙ্গে সঙ্গে যাতে গ্যাস সাপ্লাই চালু করা যায় সেজন্য পর্যাপ্ত কার্গো এলএনজি কেনা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “গতকালও আমরা চার কার্গো এলএনজি অর্ডার দিয়েছি।”
মহেশখালী এফএসআরইউ’র পাইপলাইন আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা আছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, চট্টগ্রাম থেকে বাখরাবাদ পর্যন্ত পাইপলাইন নেয়া হবে। এতে করে গ্যাস সরবরাহ সহজ হবে। এছাড়া আগামীতে সিঙ্গেল মোডিং এর মাধ্যমে ল্যান্ড এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।
কূপ খনন করে গ্যাস অনুসন্ধানের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, “১৭ বছর গ্যাস অনুসন্ধান না করে আমাদের এই অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে। কূপ খনন করে গ্যাস অনুসন্ধানে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করছে। বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে নতুন করে দুটি রিগ কেনা হয়েছে।”
ভোলার গ্যাস পাইপলাইন ছাড়া কিভাবে সরবরাহ করা যায় সেটি নিয়ে কাজ চলছে জানিয়ে ইকবাল বলেন, “মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রযুক্তিগত আলোচনা হয়েছে। ভোলার গ্যাস পাইপলাইন ছাড়া আনা গেলে সেটি শিল্প কারখানার জন্য অনেক উপকারে আসবে।”
জ্বালানি তেল আমদানি প্রাইভেট কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়ার প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, কিছু পার্সেন্টেজ প্রাইভেট কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। তবে এ নিয়ে এখনো কোনো নীতি নির্ধারণ হয়নি। যারা এখনো মুখরোচক নানা কথা ছড়াচ্ছে সেসবের কোনো ভিত্তি নেই।
ব্যাটারিচালিত রিকশা বিদ্যুতের ওপর বড় রকমের চাপ সৃষ্টি করছে জানিয়ে ইকবাল বলেন, “এই ব্যাটারিচালিত রিকশার জন্য আমাদের পিক আওয়ার চেইঞ্জ হয়ে গেছে। আগে সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১২টা পিক আওয়ার থাকলেও এখন দেখা যাচ্ছে ১২ পরেও বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াট। ব্যাটারিচালিত রিকশার ব্যাটারি চার্জের কারণে এই চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।”
কোনোভাবেই ব্যাটারি চালিত রিকশা সামাল দেয়া যাচ্ছে না জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “তারা বেশিরভাগ ইলিগ্যাল লাইন দিয়ে ব্যাটারি চার্জ দিচ্ছে। এরা সংখ্যায় মেজরিটি হওয়ায় লাইন কাটতে গেলে বিদ্যুৎ বিভাগের লোকজনদের পেটানো হচ্ছে। এদের সামাল দেয়া কঠিন হয়ে উঠছে।”
সরকার বিদ্যুৎ সংকট কাটাতে সর্বাত্মক চেষ্টা করছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সমস্যা সমাধানে সিরিয়াসলি কাজ করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী সমস্যা সমাধানে নিজেই তদারকি করছেন। সংসদে পুরো জ্বালানি নীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বিস্তারিত জাতির সামনে তুলে ধরবেন।
পূর্বের পোস্ট :