প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বুধবার বলেছেন, বর্তমানে দেশে যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট চলছে তার দায় সরকারকে দিয়ে লাভ হবে না, এটি উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সমস্যা।
“মাত্র ৬ মাস ক্ষমতায় থাকা এই নিউবর্ন বেবির মতো সরকার বর্তমান জ্বালানি নীতি করেনি। আওয়ামী লীগের সময়ে করা জ্বালানি নীতির সমস্যা পোহাতে হচ্ছে সরকারকে,” জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক্স-ফোর্স অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেন প্রতিমন্ত্রী।
প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার বিদ্যুৎ-জ্বালানি প্রশ্নে বারবার জনগণের প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। কিন্তু এই সমস্যা সরকারের সৃষ্ট না। তার ওপর মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল অবস্থা আলাদা করে সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে।
সরকারকে সহযোগিতা না করে বিরোধীদল রাজপথে নামলে সমস্যা আরও বাড়বে উল্লেখ করে নুর বলেন, “আলোচনার টেবিল থেকে সরে গিয়ে রাজপথে নামলে সংকট আরও বাড়বে। আমাদের এক ভুলে আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকেছে। এ ধরণের ভুল আর করা যাবে না।”
বিএনপি সরকারের অধীনে বাংলাদেশ অন্য কোনো রাষ্ট্রের কর্তৃত্ব মেনে নেবে না উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতের হাই কমিশনার দিনেশ ত্রিবেদিকে একটা বার্তা স্পষ্ট দিয়েছেন; বাংলাদেশ কখনো অন্য কোনো রাষ্ট্রের ক্লায়েন্ট আর কোনোদিন হবে না।”
ভারতের “ব্লু-প্রিন্টে” ২০০৮ সালে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছেন জানিয়ে নুর বলেন, এটা সবাই জানে। ভারত চেয়েছিল বলে হাসিনা এতদিন ক্ষমতায় থাকতে পেরেছে।
গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে শেখ হাসিনার পতনে সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্মরণ করে নুর বলেন, “১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার পতনে সেনাবাহিনী মুখ্য ভূমিকা পালন করেছে। তাদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই।”
তবে সেনাবাহিনীতেও কিছু পথভ্রষ্ট সৈনিক-অফিসার আছে এমন অভিযোগ তুলে নুর বলেন, “মনে রাখতে হবে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে সেনাবাহিনীর পথভ্রষ্ট অফিসাররা হত্যা করেছিল। ২৯ আগস্ট ২০২৫ সালে আমার দলীয় অফিসের সামনে সেনাবাহিনী অতর্কিত হামলা চালায় আমার ওপরে। আমার একটি নাক এখনো ভাঙ্গা। এই হামলার তদন্ত কতদূর আমি সেনাপ্রধানের কাছে জানতে চাই।”
দেশের গোয়েন্দা সংস্থা যেন দলীয় গোয়েন্দা সংস্থায় পরিণত না হয় এমন আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলের গোয়েন্দাসংস্থা হওয়া যাবে না। কাজ করতে হবে দেশের স্বার্থে।
পূর্বের পোস্ট :