সরকার প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী ও বাস্তবতা বিবর্জিত বলে অ্যাখ্যা দিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে দেয়া এক প্রতিক্রিয়ায় এনসিপি জানায়, সরকার কাগজে কলমে যে বাজেট ঘাটতির কথা বলছে বাস্তবে তা প্রায় দ্বিগুণ।
এনসিপির ছায়া বাজেট কমিটির প্রধান ও দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক আতিক মুজাহিদ বলেন, সরকার প্রায় ২.৫ লাখ কোটি টাকার ঘাটতির কথা বললেও বাস্তবে ঘাটতির পরিমাণ সাড়ে ৪.৫ লাখ কোটি টাকার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
বাজেটে যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত নয় উল্লেখ করে মুজাহিদ বলেন, "প্রস্তাবিত ৬.৯৫ লাখ কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অর্জন করা অসম্ভব। আমার ধারণা, রাজস্ব আদায়ে ২ লাখ কোটিরও বেশি ঘাটতি থেকে যেতে পারে।"
অর্থনৈতিক আকারে এটিই বাংলাদেশের ইতিহাসে বড় বাজেট হলেও এনসিপির দাবি, প্রকৃত হিসাব বিবেচনায় এই বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি বাজেট হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাবনায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং বিগত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে মোট ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
পূর্বের পোস্ট :