বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক রুচিশীলতা, শালীনতা ও পরিমিতিবোধ সব সময় আকৃষ্ট করত বলে মন্তব্য করেছেন এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি নূরুল কবীর।
খালেদা জিয়ার প্রয়াণ উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক নাগরিক শোকসভায় নূরুল কবীর বলেন, “বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়া তাঁর রুচিশীলতা, শালীনতা, পরিমিতিবোধ, আত্মমর্যাদা ও সংযমের মাধ্যমে একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। এই গুণগুলো আমাকে সব সময় আকৃষ্ট করত।”
খালেদা জিয়ার মধ্যপন্থী গণতান্ত্রিক রাজনীতির প্রসঙ্গ টেনে নূরুল কবীর বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক কর্মকৌশলের সঙ্গে তিনি কখনো সরাসরি যুক্ত না থাকলেও এই আদর্শিক ধারার প্রতি তাঁর সমর্থন সব সময় ছিল।
খালেদা জিয়ার সংযমের উদাহরণ তুলে ধরে এই প্রবীণ সাংবাদিক বলেন, “তাঁর ও তাঁর পরিবারের ওপর সংঘটিত নির্যাতন, অত্যাচার ও দুর্ভোগ নিয়ে তাঁকে কখনো কোনো নিন্দাসূচক মন্তব্য করতে কেউ শোনেনি। এ ধরনের সংযম নিঃসন্দেহে বিরল।”
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে নূরুল কবীর বলেন, “সেদিন রাতে যখন বাঙালি অফিসাররা পাকিস্তানি কমান্ডারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিচ্ছিলেন, তখন জিয়াউর রহমানের অধীনস্থ এক পাকিস্তানি সুবেদার মেজর অস্ত্রাগারের আলমারি ভেঙে বাঙালিদের ওপর গুলি চালাতে উদ্যত হয়েছিলেন। সেই সুবেদার মেজরকে বাধা দিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তখন তিনি একজন সাধারণ গৃহিণী ছিলেন। কিন্তু তাঁর সেই সাহসিকতায় সেদিন বহু বাঙালি অফিসার প্রাণে বেঁচে যান।”
খালেদা জিয়ার ওই সাহসিকতাকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই উল্লেখ করে নূরুল কবীর বলেন, যুদ্ধের প্রথম প্রহরে তিনি সাহসী ভূমিকা না নিলে অনেক বাঙালি অফিসার প্রাণ হারাতে পারতেন। এমনকি ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাও বাধাগ্রস্ত হতে পারত।
বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে নূরুল কবীর বলেন, “আপনারা এমন কোনো কাজ করবেন না, যাতে খালেদা জিয়ার আদর্শ অসম্মানিত হয়। এমন কিছু করবেন না, যাতে মানুষ বলতে পারে—খালেদা জিয়া বেঁচে থাকলে এসব দিন তাঁকে দেখতে হতো।”
তিনি বিএনপিকে গণতান্ত্রিক অভিযাত্রা অব্যাহত রেখে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলনে সক্রিয় থাকার আহ্বান জানান।
পূর্বের পোস্ট :