বিরোধী দলীয় নেতা মারিয়া কোরিনা মাচাদো হোয়াইট হাউসে একান্ত বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পকে তার নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক উপহার দিয়েছেন। মাচাদো বৈঠকের পর বলেন, “আজ আমাদের ভেনেজুয়েলাবাসীদের জন্য একটি ঐতিহাসিক দিন।”
বিবিসি জানিয়েছে, এটি ছিল মাচাদোর সঙ্গে ট্রাম্পের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে কয়েক সপ্তাহ পর, যখন মার্কিন বাহিনী কারাকাসে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করে মাদক পাচারের মামলায় বিচারের মুখোমুখি করার উদ্যোগ নিয়েছিল।
ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, পদক্ষেপটি “পারস্পরিক সম্মানের এক চমৎকার নিদর্শন।” তবে তিনি মাচাদোকে ভেনেজুয়েলার নতুন নেতা হিসেবে সমর্থন দিতে অস্বীকার করেছেন। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে মাচাদো নেতৃত্বাধীন আন্দোলন জয়ের দাবি করেছিল।
মাচাদো হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ওপর ভরসা করতে পারি।” তিনি সাংবাদিকদের জানান, পদক উপহার দেওয়া স্বাধীনতার প্রতি ট্রাম্পের অঙ্গীকারের স্বীকৃতি।
মাচাদো উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন মার্কুইস ডি লাফায়েটের পদক, যা জর্জ ওয়াশিংটনের প্রতিকৃতি খচিত, সিমন বলিভারকে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, “২০০ বছর পরে, বলিভারের জনগণ ওয়াশিংটনের উত্তরাধিকারের কাছে পদক ফিরিয়ে দিচ্ছে—এক্ষেত্রে নোবেল শান্তি পুরস্কারের পদক।”
নোবেল কমিটি অবশ্য স্পষ্ট জানিয়েছে, পুরস্কার হস্তান্তরযোগ্য নয়। কমিটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “একবার নোবেল পুরস্কার ঘোষণা হলে তা বাতিল, ভাগ বা অন্য কারও কাছে হস্তান্তর করা যায় না। সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত ও চিরস্থায়ী।”
মাচাদো ওয়াশিংটন সফরের সময় কংগ্রেসে যান এবং মার্কিন সেনেটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেখানে সমর্থকরা ‘মারিয়া, প্রেসিদেন্তে’ স্লোগান দেন এবং ভেনেজুয়েলার পতাকা উঁচু করে সমর্থন দেখান।
বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেন, মাচাদো ভেনেজুয়েলার বহু মানুষের জন্য সাহসী কণ্ঠস্বর। ট্রাম্প এই বৈঠকের অপেক্ষায় ছিলেন এবং ভেনেজুয়েলার বর্তমান বাস্তবতা নিয়ে খোলামেলা ও ইতিবাচক আলোচনা আশা করেছিলেন।
অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী রাষ্ট্রপ্রধান ডেলসি রদ্রিগেজ হোয়াইট হাউসে বৈঠকে অংশ নিতে প্রস্তুত রয়েছেন। ট্রাম্প ও রদ্রিগেজ ফোনে কথা বলেছেন এবং উভয় পক্ষই আলাপকে ‘পারস্পরিক সম্মানে পূর্ণ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
পূর্বের পোস্ট :