বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক কৃষি, সঞ্চয়পত্র ও টকশো থেকে বছরে মোট ৮ লাখ ৬৩ হাজার টাকা আয় করেন। অন্যদিকে তার স্ত্রী বহ্নি শিখা জামালী একটি পাক্ষিক ও একটি মাসিক পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে যুক্ত থাকাসহ বিভিন্ন খাত থেকে আয় করেন বছরে ৭ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। স্থাবর ও অস্থাবর মিলিয়ে স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ সাইফুল হকের সম্পদের অর্ধেকেরও বেশি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া এই বামপন্থি নেতা নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নিজের ও স্ত্রীর আয়, সম্পদ ও দায়ের বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ করেছেন।
হলফনামা অনুযায়ী, সাইফুল হকের বার্ষিক আয়ের মধ্যে কৃষি খাত থেকে ১৮ হাজার টাকা, সঞ্চয়পত্র থেকে ৪ লাখ ২৫ হাজার ৩০০ টাকা এবং টকশো থেকে ৪ লাখ ২০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। তার নগদ অর্থ আছে ৫১ হাজার টাকা।
অন্যদিকে বহ্নি শিখা জামালী সঞ্চয়পত্র থেকে বছরে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৯৯ টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা আয় করেন। তার নগদ অর্থ রয়েছে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।
স্বর্ণ ও অস্থাবর সম্পদ
হলফনামা অনুযায়ী, সাইফুল হকের কাছে ৪১ ভরি স্বর্ণ রয়েছে, যা তিনি ‘উপহার সূত্রে’ পেয়েছেন। তার স্ত্রীর কাছে রয়েছে ৭০ ভরি স্বর্ণ, সেটিও ‘উপহার সূত্রে’ পাওয়া।
সাইফুল হকের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, সাড়ে ১১ লাখ টাকা মূল্যের একটি গাড়ি, টেলিভিশন, ফ্যান, ফ্রিজ, কম্পিউটার, ল্যাপটপ ও মোবাইল ফোনসহ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকার ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ১ লাখ ১০ হাজার টাকার আসবাব। তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৫৫ লাখ ৯১ হাজার ৮৮ টাকা, যার বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৩২ লাখ ৯১ হাজার ৮৮ টাকা।
বহ্নি শিখা জামালীর অস্থাবর সম্পদের মধ্যে রয়েছে ৪৫ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ২৬ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোবাইল ফোনসহ স্বর্ণালংকার। তার অস্থাবর সম্পদের অর্জনকালীন মূল্য ৪৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৮ টাকা এবং বর্তমান মূল্য ১ কোটি ৮৮ লাখ ২৪ হাজার ৭৮ টাকা।
স্থাবর সম্পদ
স্থাবর সম্পদের হিসাবে সাইফুল হক এক একর কৃষিজমি থাকার কথা উল্লেখ করেছেন, যার মূল্যসহ মোট স্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৩৫ লাখ টাকা।
তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ৬৬ লাখ টাকা মূল্যের একটি অ্যাপার্টমেন্ট রয়েছে।
আয়কর ও অন্যান্য তথ্য
হলফনামায় আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী সাইফুল হকের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৪৭ লাখ ২১ হাজার ৮৮ টাকা এবং বহ্নি শিখা জামালীর ১ কোটি ১৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৮ টাকা। ২০২৫–২৬ করবর্ষে সাইফুল হক ৭৭ হাজার ৫৩০ টাকা এবং তার স্ত্রী ৪৬ হাজার ৭৮০ টাকা আয়কর দিয়েছেন।
হলফনামায় সাইফুল হক উল্লেখ করেছেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলার অভিযোগ নেই।
বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতা
নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া প্রাথমিক হলফনামায় সাইফুল হক নিজের বয়স ৩৫ বছর এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি উল্লেখ করেছিলেন। পরে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি জানান, টাইপিং ত্রুটির কারণে ভুল হয়েছিল, যাচাই–বাছাইয়ের সময় তা সংশোধন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংশোধিত কপিতে তার বয়স ৬৭ বছর এবং সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক দেখানো হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
গণতন্ত্র মঞ্চের শরিক বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হককে যুগপৎ আন্দোলনের অংশ হিসেবে ঢাকা–১২ আসনে বিএনপি জোটের প্রার্থী করা হয়েছে। একই আসনে বিএনপির নেতা সাইফুল আলম নীরব স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা সাইফুল আলম খান মিলন।
পূর্বের পোস্ট :